প্রান্তিক মানুষের জন্য বড় পদক্ষেপ বিহার সরকারের! আম্বেদকরের স্বপ্নপূরণে আবাসন ও বৃত্তির ওপর জোর!

সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করল বিহার সরকার। তফসিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) কল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী লক্ষেন্দ্র কুমার রোশনের সভাপতিত্বে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং সরকারি প্রকল্পগুলি তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে আধিকারিকদের একাধিক কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৈঠকের প্রধান হাইলাইটস ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত:

১৫ দিনের ডেডলাইন: এসসি-এসটি বসতিগুলিতে যে সমস্ত কমিউনিটি হল বা ভবনের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

ভূমিহীনদের তালিকা: গ্রামীণ এলাকায় প্রকৃত ভূমিহীন এসসি-এসটি পরিবারের তালিকা তৈরি করে দ্রুত বিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও আবাসনে জোর: ডঃ আম্বেদকর হোস্টেলগুলির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যাতে ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

থারু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ প্যাকেজ: বিহারের উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে থারু সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকার ৩০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা করেছে।

কর্মসংস্থান ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাহায্য: বিভাগের পরিচালক প্রিয়াঙ্কা রানী জানিয়েছেন, পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের সরকারি চাকরিতে উৎসাহিত করতে ‘প্রাক-পরীক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ বা প্রি-এক্সাম ট্রেনিং সেন্টারগুলোর পরিকাঠামো আরও উন্নত করা হবে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে পারবেন। এছাড়া ম্যাট্রিক-পরবর্তী বৃত্তি (Post-Matric Scholarship) যাতে কোনো যোগ্য পড়ুয়া মিস না করে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।

স্বচ্ছতা ও গুণমানে আপস নয়: সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জনকল্যাণমূলক এই কাজগুলিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। বাজেটের সঠিক ব্যবহার এবং কাজের গুণমান নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থারু সম্প্রদায়ের জন্য নেওয়া বিশেষ কর্মসূচিগুলি বিভাগের প্রতিশ্রুতিকেই প্রতিফলিত করে বলে জানান আধিকারিকরা।