শুভেন্দুর মিছিলে জনজোয়ার! পুলিশি ‘লক’ ভাঙল হাইকোর্টের নির্দেশে, জনসভা থেকে নবান্নকে তীব্র হুঁশিয়ারি!

আইনি লড়াইয়ে বড় জয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্য পুলিশের বাধা ও প্রশাসনিক টালবাহানাকে কার্যত ধূলিসাৎ করে কলকাতা হাইকোর্টের সবুজ সংকেত নিয়ে শুক্রবার হিঙ্গলগঞ্জে মেগা মিছিল ও জনসভা করলেন তিনি। এদিন হিঙ্গলগঞ্জের রাস্তায় শুভেন্দুর মিছিলে মানুষের ঢল দেখে স্পষ্ট— বসিরহাট মহকুমার রাজনৈতিক উত্তাপ একলাফে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

আদালতে জয়, রাজপথে দাপট: উল্লেখ্য, হিঙ্গলগঞ্জে এই সভার জন্য পুলিশি অনুমতি মেলেনি। শেষ মুহূর্তে ‘আইন-শৃঙ্খলা’র দোহাই দিয়ে সভা বাতিল করতে চেয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু দমে না গিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, শর্তসাপেক্ষে সভা ও মিছিল হবেই। আদালতের এই রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই এদিন দুপুরের পর হিঙ্গলগঞ্জে পৌঁছান শুভেন্দু।

জনসভা থেকে শুভেন্দুর বাছাই করা ৫টি আক্রমণ:

পুলিশকে তোপ: “হাইকোর্টের জুতো খেয়ে পুলিশের শিক্ষা হওয়া উচিত। তৃণমূলের দলদাস হয়ে বিরোধীদের আটকানো যাবে না।”

সিএএ ও এসআইআর: “এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। যারা এপার বাংলার ভূমিপুত্র, তাঁদের গায়ে হাত দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। বিজেপি আপনাদের পাশে আছে।”

বসিরহাটের বঞ্চনা: “সন্দেশখালি থেকে হিঙ্গলগঞ্জ— সর্বত্রই শেখ শাহজাহানদের মতো শাগরেদ পুষেছে শাসক দল। এবার হিসাব নেওয়ার সময় এসেছে।”

নবান্নকে হুঁশিয়ারি: “পুলিশ দিয়ে ভোট করানো যাবে না। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ ব্যালটে জবাব দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।”

দুর্নীতি ইস্যু: “রেশনের চাল চুরি থেকে একশো দিনের কাজের টাকা লুট— সব হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য: এদিন শুভেন্দু অধিকারীর এই মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকের যোগদান নজিরবিহীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা এলাকাগুলোতে বিজেপি যে নিজেদের জমি ফিরে পেতে মরিয়া, এই জনজোয়ার তারই প্রমাণ। পুলিশের বাধা টপকে হাইকোর্টের নির্দেশে সভা করতে পারা শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ইমেজকেও স্থানীয় কর্মীদের কাছে আরও শক্তিশালী করল।