ভোট দিলেন, ফর্মও জমা দিলেন; তাও ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ নন্দলাল! কমিশনের ভুলে তোলপাড় উত্তরবঙ্গ!

দিব্যি সুস্থ শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, গতবারও ভোট দিয়েছেন; অথচ সরকারি নথিতে তিনি এখন ‘মৃত’! ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরেই এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া এলাকায়। প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নিজেকে মৃত দেখে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা নন্দলাল রাম।
ঘটনাটি ঠিক কী? নন্দলাল রামের অভিযোগ, তিনি প্রতি বছর নিয়মিত ভোট দেন। এমনকি সম্প্রতি বিএলও (BLO) তাঁর বাড়িতে এসে এসআইআর ফর্মও দিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি তা সঠিক তথ্য দিয়ে জমাও দেন। কিন্তু তালিকায় যখন নাম বেরোল, দেখা গেল ১ নম্বরেই তাঁর নামের পাশে লেখা রয়েছে— ‘মৃত’।
নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে এখন সরকারি নথির কাগজে নিজেকে জীবন্ত অবস্থায় দেখে কার্যত আতঙ্কিত নন্দলালবাবু। তাঁর ভয়—
“সরকারি কাগজে যদি মৃত হয়ে থাকি, তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা বার্ধক্য ভাতার মতো সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা কি এবার বন্ধ হয়ে যাবে? আমি এখন বাঁচব কী করে?”
তীব্র রাজনৈতিক তরজা: এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। শুক্রবার তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং ওই ‘মৃত’ ব্যক্তিকে পাশে বসিয়েই সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তাঁর অভিযোগ:
তড়িঘড়ি কাজ: বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কমিশন তাড়াহুড়ো করে এই তালিকা তৈরি করেছে।
বিপাকে সাধারণ মানুষ: কোথাও জীবিতকে মৃত, কোথাও আবার ভোটারকে নিখোঁজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে।
প্রশাসনের দ্বারস্থ নন্দলাল: নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে এখন কড়া রোদে জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নন্দলাল রাম। বৃদ্ধ বয়সে এই মানসিক চাপ ও চরম হেনস্তার জন্য তিনি কমিশনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন। দ্রুত এই ভুল সংশোধন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাঁর পরিবার।
নির্বাচন কমিশনের এই ‘মারণ’ ভুল এখন ধূপগুড়ির টক অফ দ্য টাউন। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত নন্দলাল রামকে তাঁর ‘জীবন’ সরকারি কাগজে ফিরিয়ে দেয়।