মাদক-চক্রের হিংসার বলি তারকা ফুটবলার? গুয়াইয়াকুইলে মর্মান্তিক মৃত্যু ইকুয়েডর জাতীয় দলের প্রাক্তনী পিনেইদার

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গুয়াইয়াকুইলে ৩৩ বছর বয়সী পিনেইদা যখন তাঁর পরিবারের সঙ্গে ছিলেন, তখনই দুই আততায়ী বাইকে করে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পিনেইদা এবং তাঁর মায়ের। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। ইকুয়েডর সরকার পিনেইদার মৃত্যুর খবরে সিলমোহর দিলেও, এর পিছনের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

পেশাদার ফুটবল জীবন ও সাফল্য
বার্সেলোনা স্পোর্টিং ক্লাব: ২০১৬ সাল থেকে পিনেইদা এই ক্লাবের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তিনি ক্লাবের হয়ে ২২৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৩টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন।

জাতীয় দল: ইকুয়েডরের হয়ে ৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও তিনি দলের শরিক ছিলেন। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় তিনি জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেন।

বিদেশের ক্লাব: ২০২২ সালে তিনি ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব ফ্লুমিনেন্স-এ লোনে খেলতে যান এবং সেখানে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গুয়াইয়াকুইলে বাড়তে থাকা হিংসা
মারিয়ো পিনেইদাকে যেখানে হত্যা করা হয়েছে, সেই গুয়াইয়াকুইল শহরটি বর্তমানে মাদক পাচার এবং গোষ্ঠী সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিবিস-র রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এখানে প্রায় ১,৯০০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরেও তিন জন দ্বিতীয় ডিভিশনের ফুটবলারকে এখানে হত্যা করা হয়েছিল।

শোকবার্তা
পিনেইদার ক্লাব বার্সেলোনা স্পোর্টিং ক্লাব তাদের প্রিয় ডিফেন্ডারের উদ্দেশে লিখেছে, “বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বার্সেলোনা অনুরাগী মহলে তুমি বিশেষ স্থানে রয়ে যাবে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।” ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশনও এই হিংসার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং পিনেইদার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।