“আমরা থাকতে পারছি না!” বাংলাদেশে অরাজকতা নিয়ে বিস্ফোরক রবীন্দ্র ঘোষ, মুখ খুললেন চিন্ময় প্রভুর আইনজীবী

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা।

রবীন্দ্র ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য: বাংলাদেশে কারারুদ্ধ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে:

অরাজকতা: সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সংবাদপত্রের অফিসে (প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার) হামলা এবং অগ্নিসংযোগ মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর বড় আঘাত।

সংখ্যালঘু নিধন: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা ও ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার’ অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র: রবীন্দ্র ঘোষের আশঙ্কা, দেশে আসন্ন নির্বাচনকে বাধা দিতে এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতেই একটি বিশেষ মহল এই পরিকল্পিত হিংসা ছড়াচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতির আপডেট (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫):
সংবাদপত্রে হামলা: ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতভর ঢাকার প্রধান সংবাদপত্রগুলোর কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এমনকি ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্টে অনুযায়ী, কিছু এলাকায় সাম্প্রদায়িক উস্কানির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে।

রাষ্ট্রীয় শোক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শনিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ ও কফিন মিছিল: দেশের বিভিন্ন জেলায় ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের’ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে ‘কফিন মিছিল’ বের করেছে ছাত্র-জনতা।

আইনি লড়াই ও নিরাপত্তা: রবীন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, শুধুমাত্র আইনজীবী হওয়ার অপরাধে তাঁকেও বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।