এসআইআর-এ নাম নেই, ওদিকে জ্বলছে বাংলাদেশ! মালদহের ওপার থেকে আসা পরিবারগুলির চোখে এখন শুধুই অন্ধকার

বাংলাদেশের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা এবং ক্রমাগত হিন্দুদের ওপর হামলার খবর মালদহের বাচামারি বাংলাদেশি কলোনির বাসিন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এই কলোনির বাসিন্দাদের অধিকাংশই হিন্দু এবং তাঁরা বাংলাদেশে থাকাকালীন আওয়ামী লিগের সমর্থক ছিলেন। শেখ হাসিনা ভারতে আসার পর থেকেই প্রাণের ভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে মালদহে আশ্রয় নিয়েছেন বহু পরিবার।

জোড়া আতঙ্কে বাসিন্দারা: বর্তমানে বাচামারি কলোনির বাসিন্দারা দুটি বড় বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন: ১. বাংলাদেশে ফেরা অসম্ভব: ওপার বাংলায় অরাজকতা চরমে। তাঁদের দাবি, সূর্য ডুবলেই বাংলাদেশে শুরু হয় তাণ্ডব। ঘরবাড়ি ছেড়ে সপরিবারে পালিয়ে আসা এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আকুতি, “ওখানে গেলেই মরতে হবে, তাই আমাদের এখানেই থাকতে দিন।” ২. ভোটার তালিকায় নামহীনতা (SIR): ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) খসড়া তালিকায় অনেকের নাম নেই। ফলে আইনি পরিচিতি হারানোর ভয়ে সিঁটিয়ে আছেন তাঁরা।

কান্নাভেজা কণ্ঠস্বর: কলোনির এক বৃদ্ধ বাসিন্দা বলেন, “বাংলাদেশে এখন আগুন জ্বলছে। হিন্দু হলেই অত্যাচার করা হচ্ছে। আমরা এখানেই থাকব, যদি মেরেও ফেলা হয় তবুও যাব না। ওপারে গেলেই জ্যান্ত পুড়িয়ে মারবে।”

প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ: এই বিপুল সংখ্যক ঘরছাড়া মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনি পরিচয় নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে মালদহে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে মানবিকতার খাতিরে এই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দাবি তুলছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের একাংশ।

ওপার বাংলার অস্থিরতা যত বাড়ছে, এপারের সীমান্ত এলাকায় উদ্বাস্তু সমস্যার মেঘ ততই ঘনীভূত হচ্ছে।