তকিপুরের বিখ্যাত মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি! ৪টি মন্দিরের ৮টি প্রণামী বাক্স ভেঙে লুঠপাট, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল চোরেরা

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ আউশগ্রামের তকিপুর গ্রামের বিখ্যাত বড়মা ও ছোটমা মন্দির চত্বরে হানা দেয় তিনজনের একটি দুষ্কৃতী দল। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল এবং হাতে ছিল শাবলসহ চুরির সরঞ্জাম।

লুঠপাটের খতিয়ান:

টার্গেট: বড়মা মন্দির, ছোটমা মন্দির এবং সংলগ্ন দুটি শিব মন্দির।

ক্ষয়ক্ষতি: দুষ্কৃতীরা মোট ৮টি প্রণামী বাক্স ভেঙে সর্বস্ব লুঠ করে। গ্রামবাসীদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, প্রায় ২৫ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ: মন্দিরে লাগানো একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরায় তিন চোরকে প্রণামী বাক্স ভাঙতে দেখা গিয়েছে।

গ্রামবাসীদের বীরত্ব: রাত দেড়টা নাগাদ মন্দির থেকে সন্দেহজনক আওয়াজ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দা অসিত সরকার। তিনি প্রতিবেশীদের খবর দিলে সবাই মিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুষ্কৃতীদের তাড়া করেন। গ্রামবাসীদের উপস্থিতি টের পেয়েই দুষ্কৃতীরা অন্ধকার পথে দৌড়ে পালায়। বেশ কিছুটা দূর ধাওয়া করলেও শেষ পর্যন্ত শাবল হাতে থাকা চোরদের ধরা সম্ভব হয়নি।

পুলিশি তদন্ত ও আতঙ্ক
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আউশগ্রাম থানা ও গুসকরা বিট হাউসের পুলিশ। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। সেবাইত দেবাশিস সরকার ও মধুমিতা সরকাররা জানিয়েছেন, পুলিশের টহল সত্ত্বেও মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে এই ধরনের চুরি তাঁদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে।

গ্রামবাসীদের দাবি: তকিপুরের এই কালী মন্দিরগুলো দক্ষিণবঙ্গের অত্যন্ত জাগ্রত এবং ঐতিহ্যবাহী মন্দির হিসেবে পরিচিত। এই চুরিকাণ্ড কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, ভক্তদের আবেগকেও আঘাত করেছে। গ্রামবাসীরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।