“১৪ বছরেও ব্রিজ করেনি সরকার!” বাঁশের সেতু উদ্বোধন করে পাল্টা রাজ্যকেই কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি বিধায়ক

রূপনারায়ণ নদীর ওপর দিয়ে দুই জেলা— হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সংযোগকারী কংক্রিটের সেতু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কার্যত জলে মিশিয়ে বাঁশের সেতুতে ফুল-মালা দিয়ে উদ্বোধন করলেন খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। আর এই বাঁশের সেতু উদ্বোধন ঘিরেই সরগরম হুগলির রাজনীতি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: খানাকুল-২ পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ধান্যঘোরি-বন্দর ফেরিঘাটের জন্য প্রায় ২১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ, বিধায়ক ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি সেই বরাত পেয়েছেন। বুধবার ধুমধাম করে, বাজনা বাজিয়ে সেই বাঁশের সেতুর উদ্বোধন করেন বিধায়ক। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক কাজিয়া।

তৃণমূলের তোপ: তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের আগে বিধায়ক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে কংক্রিটের ব্রিজ হবে এবং ফেরিঘাট ফ্রি করে দেওয়া হবে। এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে বাঁশের সেতু উদ্বোধন করছেন তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ফেরিঘাট থেকে যে টোল আদায় হচ্ছে, সেই টাকার ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে বিজেপি-র নিজেদের মধ্যেই গোলমাল চলছে। তাদের সাফ কথা, “বিধায়ক একজন বড় ফেরেব্বাজ ও তোলাবাজ।”

পাল্টা যুক্তি বিধায়কের: তৃণমূলের আক্রমণকে নস্যাৎ করে বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, “তৃণমূল পাগলের দল হয়ে গিয়েছে। ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও রাজ্য সরকার এই ব্রিজটা করতে পারেনি। টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে হয়েছে এবং যারা সর্বোচ্চ দর দিয়েছে তারাই বরাত পেয়েছে। তারা নিয়ম মেনেই সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দিচ্ছে।”

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: রাজনীতির এই টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিন্তু কমছে না। দুই জেলার হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্ষায় রূপনারায়ণের জল বাড়লে এই বাঁশের সেতু ভেঙে যায়, তখন একমাত্র ভরসা খেয়া পারাপার। বর্তমানে যাতায়াতের জন্য টোল নেওয়া হলেও তার কোনও নির্দিষ্ট তালিকা না থাকায় মাঝেমধ্যেই বচসা বাঁধছে যাত্রী ও ঘাট কর্মীদের মধ্যে।

কংক্রিটের সেতুর স্বপ্ন কবে পূরণ হবে, সেই প্রশ্নই এখন রূপনারায়ণের পাড়ে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মুখে।