“দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রণ হবে গরিবের রুটি-রুজি!” প্রকল্পের নাম বদলে শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রাহুলের

বিরোধীদের প্রবল বাধা ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদের দুই কক্ষে পাশ হয়ে গেল ‘দ্য বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জি রাম জি বিল ২০২৫। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান পেশ করা এই বিলের মাধ্যমেই ইউপিএ আমলের ঐতিহাসিক ‘মনরেগা’ (MGNREGA) প্রকল্পের খোলনলচে বদলে দিল মোদী সরকার।

কী আছে নতুন বিলে? প্রস্তাবিত নতুন বিলে মূলত তিনটি বড় বদল আনা হয়েছে:

কাজের দিন বৃদ্ধি: বছরে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিন কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দ হ্রাস: এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। অর্থাৎ বাকি ৪০ শতাংশ টাকা এখন রাজ্যগুলিকেই বহন করতে হবে।

ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ: আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হতো, এখন থেকে কেন্দ্র ঠিক করবে কোন রাজ্য কত টাকা পাবে।

রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক তোপ: এই বিল পাশের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “২০ বছরের পুরনো মনরেগা-কে একদিনেই ধ্বংস করে দিল মোদী সরকার। এটি কোনও সংস্কার নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পদ্ধতি। দিল্লি থেকে রেশনিং-এর মতো করে এই প্রকল্প চালানো হবে যা গ্রাম ও রাজ্য বিরোধী।”

রাহুলের দাবি, মনরেগা গ্রামীণ শ্রমিকদের দর কষাকষির ক্ষমতা দিয়েছিল এবং পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়েছিল। কেন্দ্রের এই নতুন বিল দলিত, ওবিসি এবং আদিবাসীদের সেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে শ্রমশক্তিকে দুর্বল করে দেবে। যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়াই কেন এই বিল স্থায়ী কমিটিতে না পাঠিয়ে তড়িঘড়ি পাশ করানো হলো, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করে রাহুল গান্ধী অঙ্গীকার করেছেন যে, গ্রামীণ গরিবদের এই শেষ রক্ষাকবচ তিনি ধ্বংস হতে দেবেন না। শ্রমিক, পঞ্চায়েত ও রাজ্যগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।