কলকাতায় অলিম্পিক হিরো! তিলোত্তমায় পা রেখেই ভারতীয় অ্যাথলিটদের মেন্টর হওয়ার প্রস্তাব দিলেন কেনি বেডনারেক

প্রতিভা আছে, দরকার শুধু সুযোগ আর সঠিক পরিকাঠামো— কলকাতায় পা রেখে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স নিয়ে এমনটাই ইতিবাচক বার্তা দিলেন দু’বারের অলিম্পিক রুপোজয়ী মার্কিন স্প্রিন্টার কেনি বেডনারেক। টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এবার শহরে এসেছেন তিনি। শনিবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বেডনারেক জানান, ভারতের উদীয়মান অ্যাথলিটদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে বা মেন্টরের ভূমিকা পালনে তিনি সবসময় প্রস্তুত।

অলিম্পিক পদক নিয়ে শহর সফর: ২৭ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার তাঁর ২০২১ ও ২০২৪ অলিম্পিক্সের ২০০ মিটার দৌড়ে জেতা রুপোর পদক দুটি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। কলকাতায় এসে ভারতের ক্রীড়াপ্রেম দেখে মুগ্ধ বেডনারেক। তাঁর কথায়, “খেলাধুলো নিয়ে এদেশের মানুষের প্যাশন অতুলনীয়। ক্রিকেট, ফুটবল বা অ্যাথলেটিক্স— সব কিছুতেই একটা অকৃত্রিম ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে। এই ইভেন্টই মানুষকে একত্রিত করে।”

সাফল্যের মন্ত্র: সাফল্যের রসায়ন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেনি বেডনারেক মানসিক শক্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দৌড়ের দিনে ৯০ শতাংশই নির্ভর করে মানসিক স্থিতির ওপর। তুমি শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম তার থেকেও বড় বিষয় হলো ওই মুহূর্তে তুমি মানসিকভাবে কতটা শক্তিশালী। শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা আর হার না মানা বিশ্বাসই একজন অ্যাথলিটকে পোডিয়াম পর্যন্ত নিয়ে যায়।”

বোল্ট-উত্তর যুগে মার্কিন দাপট: একসময়ে জামাইকান স্প্রিন্টার উসেইন বোল্ট বা ইয়োহান ব্লেকদের দাপটে আমেরিকা কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, কেনি মনে করেন ফের বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে নিজেদের দাপট ফিরে পাচ্ছে আমেরিকা। আসন্ন অলিম্পিক্সে সোনার পদক জেতাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

কলকাতার জন্য বিশেষ বার্তা: রবিবারের মেগা দৌড় নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত কেনি। তিনি জানান, পেশাদার এবং অপেশাদার দৌড়বিদদের একই রাস্তায় একসঙ্গে দৌড়তে দেখার অভিজ্ঞতা হবে দারুণ আকর্ষণীয়। রবিবার সকালে হাজার হাজার রানারদের উৎসাহিত করতে তিনি নিজেও ট্র্যাকে উপস্থিত থাকবেন।