রক্তাক্ত বাংলাদেশ! ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে বীভৎস তাণ্ডব, খুলনায় সাংবাদিক ও ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক খুন

অশান্তির দাবানলে পুড়ে খাক হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নারকীয় তাণ্ডব। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মৌলবাদী শক্তির দাপটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বিশ বাঁও জলে।

খুন সাংবাদিক ও সংখ্যালঘু যুবক: নৈরাজ্যের বলি হতে হচ্ছে সমাজের সব স্তরের মানুষকে। খুলনায় কর্তব্যরত এক সাংবাদিককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পারদ চড়েছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় ওপার বাংলার সংখ্যালঘু এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ: গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভও এই তাণ্ডব থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ঢাকায় একাধিক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের দপ্তরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে দাঙ্গাবাজরা। সাংবাদিকরা প্রাণভয়ে আত্মগোপন করছেন। মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার ওপর এই নগ্ন হামলা বাংলাদেশের অরাজকতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

ভারত-বিদ্বেষ ও মৌলবাদের দাপট: রাজধানী ঢাকার রাজপথে এখন ভারত-বিদ্বেষী স্লোগানে কান পাতা দায়। ভারত-বিরোধী মানসিকতাকে পুঁজি করে একদল উগ্রপন্থী গোটা দেশকে অশান্ত করে তুলেছে। মৌলবাদীদের আস্ফালনে তছনছ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ দোকানপাট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন থেকে শুরু করে একাধিক জায়গায় নতুন করে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠছে।

সঙ্কটে ইউনুস প্রশাসন: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে, তখন অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যত ব্যর্থ। পুলিশ ও প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকায় দাঙ্গাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্বেষ ও হিংসার এই অন্ধকার থেকে কবে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ, এখন সেই প্রশ্নই তুলছে আন্তর্জাতিক মহল।