পাক সেনায় ঢুকে ভারতের গুপ্তচর! কারা এই ‘ধুরন্ধর’? রণবীর সিংয়ের ছবির পেছনের হাড়হিম করা আসল সত্য!

পাকিস্তানে ঢুকে খোদ পাক সেনার উচ্চপদে চাকরি করা, কিংবা করাচির মাফিয়া ডনের ডানহাত হয়ে ওঠা— এসব কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, বরং ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর এক অতি গোপন ও দুঃসাহসী অভিযানের বাস্তব ইতিহাস। পরিচালক আদিত্য ধরের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) মুক্তি পেতেই এখন চর্চায় আশির দশকের সেই দুর্ধর্ষ স্পাইরা।

কারা এই ‘ধুরন্ধর’? আশির দশকে ভারত-পাক সীমান্ত এলাকা থেকে এমন কিছু যুবককে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাঁদের পারিবারিক পিছুটান নেই এবং যাঁরা পাক-পাঞ্জাবি সংস্কৃতিতে তুখোড়। নিখুঁত মানুষ খুঁজে পেতে সীমান্তের গ্রামগুলোতে নাটকের প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হতো। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে তিনজনকে দুবাই হয়ে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। তাঁদের লক্ষ্য ছিল দুটি:

হয় পাক সেনায় ঢুকে পড়ে অতি গোপন তথ্য জোগাড় করা।

অথবা অপরাধ জগতে ঢুকে অস্ত্র ও মাদকের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা।

বাস্তব যখন সিনেমার চেয়েও রোমাঞ্চকর: ছবির টিমের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই তিন এজেন্টের মধ্যে একজন সাফল্যের সঙ্গে পাক সেনার উচ্চপদে আসীন হয়েছিলেন। দ্বিতীয়জন করাচির এক কুখ্যাত ডনের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তবে তৃতীয় এজেন্টের পরিণতি আজও রহস্যে মোড়া। সাধারণ গুপ্তচরদের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্য ছিল— একবার অপারেশন শুরু করলে ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকত না।

রণবীর সিং ও লিয়ারি ডন: সিনেমায় রণবীর সিংকে দেখা যাচ্ছে এক ‘ধুরন্ধর’-এর ভূমিকায়, যিনি বালুচ ভাষা ও আচার রপ্ত করে পাকিস্তানের কুখ্যাত অপরাধ কেন্দ্র ‘লিয়ারি’-তে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁর লক্ষ্য লিয়ারির বেতাজ বাদশা রহমান ডাকাত।

আরব লিগে নিষিদ্ধ: বাস্তবসম্মত চিত্রায়ন এবং স্পর্শকাতর বিষয়ের কারণে আরব লিগের একাধিক দেশে ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞাই দর্শকদের মধ্যে ছবিটির প্রতি আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারে এটি অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হতে চলেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।