“বিপদ বড় ছিল, কিন্তু বাঁচার ইচ্ছেটা আরও বড়!” ডুয়ার্সের মানুষের অবিশ্বাস্য জেদের কাছে হার মানল প্রকৃতিও!

গত ৫ অক্টোবরের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন জলঢাকা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ। রাক্ষুসে বন্যার জলোচ্ছ্বাসে চোখের নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল সাজানো সংসার। কিন্তু দু’মাস পেরোতেই ছবিটা বদলাচ্ছে। ডুয়ার্স তথা ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ির বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে এখন ধ্বংসের হাহাকার নয়, বরং শোনা যাচ্ছে নতুন করে জীবন গড়ার হাতুড়ি-বাটালের শব্দ।
ধ্বংসস্তূপেই আশার আলো: জলঢাকা নদীর প্রবল গ্রাসে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ির একাধিক গ্রাম এবং নাগরাকাটা এলাকা। বিশেষ করে গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের কুল্লাপাড়া এলাকায় একের পর এক কাঁচা ও পাকা বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। চাষের জমি থেকে আসবাব— কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু আজ সেই গ্রামগুলিতে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে কর্মব্যস্ততার ছবি। কেউ রাজমিস্ত্রি দিয়ে ইটের দেওয়াল তুলছেন, কেউ আবার বাঁশ-বেত দিয়ে মাথার ওপর অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করছেন।
সরকারি সাহায্য ও লড়াই: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বন্যার ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে পেতেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। নিজেদের ভিটেতেই নতুন করে ছাদ তৈরির লড়াই শুরু হয়েছে। যদিও গ্রামবাসীদের মনে সামান্য আক্ষেপ রয়েছে— ক্ষতিপূরণের অঙ্কটা আর একটু বেশি হলে ঘরগুলো হয়তো আরও মজবুত করা যেত। তবুও যেটুকু পাওয়া গিয়েছে, তা সম্বল করেই শীতের আগে মাথার ওপর একটা নিরাপদ আস্তানা গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য সবার।
জেদের কাছে হারল প্রকৃতি: বন্যা বিধ্বস্ত এক বাসিন্দা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “বিপদ অনেক বড় ছিল, কিন্তু আমাদের বাঁচার ইচ্ছেটা তার চেয়েও বড়।” এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে ডুয়ার্সের মানুষের অদম্য লড়াইয়ের কাহিনী। প্রকৃতির রোষে সব হারিয়েও কীভাবে শূন্য থেকে শুরু করা যায়, ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ির এই মানুষগুলো আজ সারা বাংলার কাছে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
একনজরে ডুয়ার্সের হালহকিকত:
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: কুল্লাপাড়া, গধেয়ারকুঠি, নাগরাকাটা (জলঢাকা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল)।
বর্তমান পরিস্থিতি: সরকারি সহায়তায় ঘর তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে।
প্রধান সমস্যা: চাষের জমি নষ্ট হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বাসস্থানের সংকট।
ইতিবাচক দিক: স্থানীয় মানুষের প্রবল মানসিক শক্তি ও ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ।