হাত দিলেই গুঁড়ো হচ্ছে ঢালাই! গোঘাটে ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পে চরম দুর্নীতি, রণক্ষেত্র গ্রাম!

সরকারি প্রকল্পের কাজ অথচ মান নিয়ে উঠছে হাজারো প্রশ্ন। বীরভূমের পর এবার হুগলির গোঘাটে ‘আবারো আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হলেন গ্রামবাসীরা। বাদেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচিল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
ঘটনার বিবরণ: গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের ভাদুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ওই স্কুলের পাঁচিল নির্মাণের কাজ চলছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের বালি, সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সামান্য আঘাতেই ভেঙে পড়ছে পাঁচিলের পিলার। এমনকি ঢালাই করা অংশ হাত দিয়ে ঘষলেই বালির মতো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। যা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আধিকারিককে ঘিরে বিক্ষোভ: বৃহস্পতিবার সকালে ভাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক (Nirman Sahayak) কাজ পরিদর্শনে এলে তাঁকে ঘিরে ধরেন গ্রামবাসীরা। চলে দফায় দফায় বিক্ষোভ। উত্তেজিত জনতা হাতে করে ঢালাই গুঁড়ো করে দেখিয়ে প্রশাসনের নজরদারিতে গাফিলতির প্রমাণ দেন। বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্যামেরার সামনে নির্মাণ সহায়ক স্বীকার করে নেন যে, “মিস্ত্রি ভুল করেছে।” গ্রামবাসীদের সাফ দাবি, যদি মান উন্নত না হয়, তবে এই কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
রাজনৈতিক তরজা: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি নেত্রী দোলন দাস বলেন, “তৃণমূল জমানায় কাটমানি ছাড়া কোনো কাজ হয় না। ঠিকাদার ও নেতাদের পকেটে টাকা ভরার জন্যই স্কুলের কাজে এই ধরণের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই।”
অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কাজে কোনো ত্রুটি থাকে তবে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি প্রাথমিক স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরণের গাফিলতিতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও।