অন্য কোথাও ছুঁলে কী হতো?’ হিজাব কাণ্ডে নীতীশের সমর্থনে শরিক নেতার চরম বিতর্কিত বয়ান, তোলপাড় দেশ!

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের হিজাব টেনে নামানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় বইছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর রক্ষাকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে ঘি ঢাললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এবং এনডিএ জোটের শরিক নেতারা।
গিরিরাজ সিংয়ের কড়া অবস্থান: বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও নীতীশ কুমারের পাশে দাঁড়িয়ে গিরিরাজ সিং সাফ জানান, মুখ্যমন্ত্রী কোনো ভুল করেননি। সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন:
“চাকরি পাওয়ার জন্য পরিচয় নিশ্চিত করা ভোটের মতোই অপরিহার্য।”
“পাসপোর্ট বা বিমানবন্দরে গেলে কি মুখ দেখাতে হয় না? এটা ভারত, কোনো ইসলামিক রাষ্ট্র নয়। এখানে ভারতীয় আইন চলবে।”
হিজাব বিতর্কের জেরে ওই মহিলা চিকিৎসক সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে অস্বীকার করলে গিরিরাজ মেজাজ হারিয়ে বলেন, “সে অস্বীকার করুক বা জাহান্নামে যাক!”
পাল্টা আক্রমণে বিরোধীরা: গিরিরাজ সিংয়ের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেহবুবা মুফতির কন্যা তথা পিডিপি নেত্রী ইলতিজা মুফতি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি অত্যন্ত চড়া সুরে লেখেন, “এই লোকটার নোংরা মুখ পরিষ্কার করতে ফিনাইল লাগবে। মুসলিম মা-বোনদের হিজাবে হাত দেওয়ার সাহস করবেন না, অন্যথায় মুসলিম নারীরা আপনাদের উচিত শিক্ষা দেবে।”
শরিক নেতার বিস্ফোরক মন্তব্য: বিতর্ক আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী তথা নিষাদ পার্টির নেতা সঞ্জয় নিষাদ। নীতীশ কুমারের সমর্থনে সাফাই দিতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হিজাব ছুঁয়েছেন বলেই এত কিছু হচ্ছে… অন্য কোথাও স্পর্শ করলে কী হতো?” তাঁর এই মন্তব্য নারী নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পটভূমি: গত মঙ্গলবার বিহারে আয়ুষ চিকিৎসকদের নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এক মহিলা চিকিৎসকের হিজাব টেনে সরিয়ে দেন ৭৪ বছর বয়সী নীতীশ কুমার। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সরব হয় আরজেডি এবং কংগ্রেস। তবে নীতীশের দল জেডিইউ-এর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কেবল ওই মেয়ের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন করেছেন। রাজ্যের সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী জামা খানের দাবি, “নীতিশজি চেয়েছিলেন সমাজ ওই মেয়ের সাফল্য দেখুক।”
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর একটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। একদিকে শাসক দল একে ‘পারিবারিক স্নেহ’ বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা একে নারীর মর্যাদাহানি হিসেবে দেখছে।