“বাংলার ক্ষতি কেউ করতে পারবে না, আমি চ্যালেঞ্জ করছি!” বিরোধীদের কুৎসার পাল্টা জবাব দিলেন মমতা।

বাংলার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত নেতিবাচক প্রচার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘ভুয়ো’ খবরের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলাকে বদনাম করার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হবে। তাঁর মতে, বাংলা আজ কেবল একটি রাজ্য নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ‘লজিস্টিক হাব’।

অর্থনৈতিক ও শিল্প বিপ্লবের রূপরেখা: রাজ্যের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের খতিয়ান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন:

রেল ওয়াগন কারখানা: হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায় ৩৫০ একর জমি দেওয়া হচ্ছে শিল্পপতি উমেশ চৌধুরীকে, যেখানে বড় মাপের ওয়াগন তৈরির কারখানা গড়ে উঠবে।

পর্যটনে সাফল্য: পশ্চিমবঙ্গ আজ ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে।

পড়ুয়াদের উপহার: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় জোয়ার আনতে সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের বছরে ১৬ লক্ষ সাইকেল দেওয়ার কাজ নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রকল্প: ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি বড় ঘোষণা করেছেন: ১. দুর্গাঙ্গন: আগামী ২৯ ডিসেম্বর রাজারহাটে বিশালাকার ‘দুর্গাঙ্গন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। ২. মহাকাল মন্দির: শিলিগুড়ির ঐতিহ্যবাহী মহাকাল মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন নিশ্চিত করেছে রাজ্য সরকার।

মনরেগা বিতর্ক ও গান্ধীজি: ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের (MGNREGA) নাম পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্রের পদক্ষেপে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীজি জাতির জনক। তাঁকে সম্মান না জানানো হলে আমি লজ্জিত বোধ করি। তবে আমরা চিরকাল তাঁকে যথাযথ সম্মান জানিয়ে যাব।”

ইতিবাচক থাকার আহ্বান: সমালোচকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা— “নীরবতা একটি বড় অস্ত্র, আর হিংসার কোনো প্রতিকার নেই।” তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, বাংলা একটি শান্তিপূর্ণ রাজ্য এবং প্রত্যেকের এখানে মাথা উঁচু করে বাঁচার ও কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।