আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্নে বড় ধাক্কা! ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে গেল H1B ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট।

ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও আমেরিকায় কর্মরত অভিবাসীদের জন্য বড় সংকট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রধান ভরসা H1B এবং তাঁদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় H-4 ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি এক ধাক্কায় অনেকটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, যাঁদের ২০২৬ সালের শুরুতেই ইন্টারভিউ হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের এখন অপেক্ষা করতে হবে ওই বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত।

কেন এই অচলাবস্থা? দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ‘বিদেশি তাড়াতে’ এবং অভিবাসন নীতি কঠোর করতে সক্রিয় হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে চালু হয়েছে একগুচ্ছ কড়া নিয়ম:

সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি: এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর কড়া নজর রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

ভিসা বাতিল: সিএনএন (CNN)-এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাস থেকে প্রায় ৮৫,০০০ ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮,০০০ জনই হলেন পড়ুয়া।

বিপাকে ভারতীয় পরিবারগুলো: ভিসার এই টালবাহানায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই ভারতীয়রা, যাঁরা ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন। H1B ভিসা রিনিউ করতে দেরি হওয়ায় বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পিছিয়ে যাওয়ায় তাঁরা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।

পারিবারিক বিচ্ছেদ: H-4 ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টও পিছিয়ে যাওয়ায় বহু ভারতীয় কর্মী তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে মাসের পর মাস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

চাকরি নিয়ে সংশয়: দীর্ঘ সময় অফিসের ছুটি নিয়ে দেশে আটকে থাকায় অনেকের চাকরি চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মার্কিন সরকারের অবস্থান: মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আমেরিকার নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত আইনজীবীরাও এই পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ ইন্টারভিউ ছাড়া ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব নয়।

পরবর্তী ধাপ কী? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬-এর আগে এই জট খোলার সম্ভাবনা কম। অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে দুবাই বা সিঙ্গাপুরের মতো তৃতীয় কোনো দেশে মার্কিন কনস্যুলেটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন, যদিও তাতেও সুরাহার নিশ্চয়তা নেই।