বাবার সঙ্গে করেছেন রাজমিস্ত্রির কাজ! আইপিএলের কোটিপতি লিগে গোরখপুরের ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ বিশাল।

আইপিএল মানেই রূপকথার মতো উত্থান। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার খোরাবার থানার অযোধ্যা গ্রাম আজ এক অকাল উৎসবে মেতেছে। কারণ, সেই গ্রামেরই ভূমিপুত্র বিশাল নিশাদ এবার আইপিএলের ১৯তম সিজনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ৩০ লক্ষ টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছে প্রীতি জিন্টার পঞ্জাব কিংস। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক চরম দারিদ্র্য ও অদম্য জেদের লড়াই।
বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ: বিশাল নিশাদের পারিবারিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন। বাবা উমেশ নিশাদ একজন হৃদরোগী, পেশায় রাজমিস্ত্রি। অভাবের সংসারে বড় হওয়া বিশাল বাবার ওপর চাপ কমাতে নিজেও রাজমিস্ত্রির কাজে হাত লাগাতেন। হাতে কর্নি-হাতুড়ি নিয়েও চোখে ছিল ভারতের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন। সেই বিশালই আজ পঞ্জাব কিংসের ডেরায়।
খেত থেকে মিস্ট্রি স্পিনার: বিশালের ক্রিকেটের হাতেখড়ি কোনো নামী একাডেমিতে নয়, বরং গ্রামের এবড়োখেবড়ো খেত আর খোলা জায়গায়।
কোচের অবদান: কোচ কল্যাণ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই বিশালের প্রতিভাকে গড়ে তুলেছেন।
স্পেশালিটি: বিশালের প্রধান অস্ত্র হলো তাঁর ‘মিস্ট্রি স্পিন’। কোচের দাবি, বড় বড় অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও বিশালের বল পড়তে হিমশিম খান।
সাফল্যের সিঁড়ি: জীবন বদলে যায় যখন বিশাল উত্তরপ্রদেশ (UP) টি-২০ লিগে খেলার সুযোগ পান। সেখানে তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নজর কেড়ে নেয়। আইপিএল নিলামে তাঁকে নিয়ে লড়াই শুরু না হলেও, পঞ্জাব কিংসের নজরে তিনি ছিলেন ‘ডার্ক হর্স’।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: আইপিএলের মঞ্চে সুযোগ পেয়েই থেমে থাকতে চান না বিশাল। রাজমিস্ত্রির কাজ করা সেই ছোট হাতগুলো এখন বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের উইকেট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বিশালের কথায়, “আইপিএল তো শুরু মাত্র, আমার চূড়ান্ত স্বপ্ন ভারতীয় দলের নীল জার্সি গায়ে দেওয়া।”
গোরখপুরের অজ গাঁ থেকে বিশালের এই যাত্রা প্রমাণ করে দিল— যদি কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে খেতের মাটি থেকেও আকাশ ছোঁয়া যায়।