“বাংলার ভাবমূর্তি বদলাবই, এটাই ছিল আমার চ্যালেঞ্জ!” ধনধান্যর মঞ্চ থেকে কুৎসার কড়া জবাব মমতার।

“পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে বদনাম করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে।” বৃহস্পতিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শিল্প ও বাণিজ্য সম্মেলন থেকে বিরোধীদের নেতিবাচক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এভাবেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বদলে যাওয়া শিল্প-মানচিত্র তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল, আজ তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ জয় ও সাফল্যের খতিয়ান: মুখ্যমন্ত্রী জানান, একসময় বলা হতো বাংলায় আর শিল্প হবে না। সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে তৃণমূল সরকার রাজ্যে লজিস্টিক হাব, ল্যান্ড ব্যাঙ্ক এবং শিল্প স্থাপনের জটিলতা কমিয়ে এক নতুন বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি:
রাজ্যে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ কমেছে।
সবজি উৎপাদনে বাংলা আজ দেশে প্রথম এবং চাল উৎপাদনে দ্বিতীয়।
আইটি এবং লেদার সেক্টরে বিপুল বিনিয়োগ এসেছে।
রাজ্যের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন শিল্পের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের উপহার: এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো মজবুত করতে বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও ঘোষণা করেন: ১. বিদ্যুৎ: সাগরদিঘিতে ৬৬০ মেগাওয়াটের সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল ইউনিট। ২. শিল্প পার্ক: আসানসোল এবং বাঁকুড়ায় দু’টি নতুন WBSIDCL পার্ক। ৩. MSME ফেসিলিটেশন সেন্টার: কলকাতা, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমসহ মোট ৮টি জেলায় ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ কেন্দ্র। ৪. বেঙ্গল ডেয়ারি: হরিণঘাটায় ৬৫ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে প্রতিদিন ২ লক্ষ লিটার দুধ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন প্ল্যান্ট। ৫. পর্যটন: ব্যারাকপুরের গান্ধীঘাটের সৌন্দর্যায়ন (উৎসধারা প্রকল্প)।
শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান: সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের সাইকেল বিলির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সাইকেল বাইরে থেকে কিনতে অনেক খরচ হয়। রাজ্যে অনেক জমি আছে, কেউ চাইলে এখানে সাইকেল তৈরির ফ্যাক্টরি গড়তে পারেন।”
বিরোধীদের কড়া বার্তা: জিএসটি (GST) চালুর ফলে রাজ্যের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে এ দিন অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারের জবাবে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি— “জেলাসির (হিংসা) কোনও ওষুধ নেই। যারা বদনাম করছে তারা সত্য জানে না। আমাদের আসল অস্ত্র হলো চুপ থেকে কাজ করে যাওয়া।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা এবং নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন রাজ্যের শিল্প মহলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।