ডিজিটাল যুগেও হার মানেনি তুলি! চিলাপাতে পর্যটকদের মন কাড়ছে রাভা জনজাতির হাতে তৈরি ‘লিভিং ফ্লেক্স’।

চারদিকে যখন ডিজিটাল ফ্লেক্স আর প্লাস্টিকের দাপট, তখন আলিপুরদুয়ারের ডুয়ার্স অরণ্যের কোলে এক অনন্য শিল্পধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন চিলাপাতার রাভা জনজাতির মানুষ। যান্ত্রিক প্রিন্টিং নয়, বরং নিজেদের হাতে কাপড়ের ওপর ছবি এঁকে তাঁরা তৈরি করছেন অনুষ্ঠানের ফ্লেক্স। আর রাভা যুবক-যুবতীদের এই শৈল্পিক দক্ষতাই এখন চিলাপাতা পয়েন্টে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতি থেকেই রঙের খোঁজ: এই শিল্পীরা কখনও কোনও আর্ট স্কুলে যাননি। পূর্বপুরুষদের দেখে দেখেই রপ্ত করেছেন এই বিদ্যা। তাঁদের আঁকার উপকরণগুলোও বেশ চমকপ্রদ:
তুলি ও ক্যানভাস: সাধারণ কাপড় বা চটকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
রঙের রহস্য: কালো রঙের জন্য ব্যবহৃত হয় কাঠকয়লা এবং বিভিন্ন পাতা পোড়া ছাইয়ের সঙ্গে তেলের মিশ্রণ। সাদা রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় সাধারণ চুন।
নিখুঁত কাজ, মুগ্ধ পর্যটক: সম্প্রতি চিলাপাতায় একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। আর সেই উপলক্ষ্যেই চিলাপাতা পয়েন্টে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলছে শিল্পীদের ব্যস্ততা। কোনও স্কেল বা আধুনিক সরঞ্জাম ছাড়াই তাঁরা যে নিখুঁত ছবি ফুটিয়ে তুলছেন, তা দেখে অবাক হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়ে এই শিল্পকর্ম তৈরির ভিডিও করছেন।
শিকড়ের টান: শিল্পী জয়ন্তী রাভা জানান, “আমরা আমাদের মা-কাকিমাদের ছোটবেলা থেকে এভাবেই ফ্লেক্স তৈরি করতে দেখেছি। পাশে বসে দেখতে দেখতেই আমরাও শিখে গিয়েছি। এটা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ।” চিলাপাতার প্রাকৃতিক পরিবেশ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে তাঁরা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন অরণ্য জীবনের প্রতিচ্ছবি।
আধুনিকতার ভিড়ে রাভা জনজাতির এই শিল্পচর্চা শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং বাঙালির হারানো লোকশিল্পকে নতুন করে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। ডুয়ার্স ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে চিলাপাতা পয়েন্ট এখন কেবল জঙ্গল দেখার জায়গা নয়, বরং জীবন্ত শিল্প দেখার গন্তব্য হয়ে উঠেছে।