শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল ঢাকা! আপাতত বন্ধ ভারতীয় ভিসা, বিপাকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে ফের ঘনিয়ে এল অস্থিরতা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের থেকে প্রত্যর্পণের দাবিতে ঢাকার রাজপথে নামল কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে ওঠে যে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলো (IVAC) সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিল নয়াদিল্লি।

বিক্ষোভের আঁচ হাইকমিশনের দোরগোড়ায়: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে জড়ো হতে শুরু করে কয়েক হাজার কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারী। তাঁদের দাবি একটাই— “শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে।” বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক সেনা ও পুলিশ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করায় ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

বিপাকে ভিসা প্রত্যাশীরা: ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “অনিবার্য কারণে এবং নিরাপত্তার অভাবের দরুন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হলো।”

হাজার হাজার বাতিল আবেদন: চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনের জন্য যারা ভারতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এই সিদ্ধান্তে তাঁরা চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন।

কবে খুলবে? পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সেন্টারগুলো পুনরায় খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানা যাচ্ছে।

নয়াদিল্লির অবস্থান: নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। যদি দূতাবাসের সামনে এই ধরণের উসকানিমূলক বিক্ষোভ চলতে থাকে, তবে স্বাভাবিক পরিষেবা বজায় রাখা অসম্ভব। এই বিষয়ে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কড়া বার্তাও পাঠিয়েছে ভারত।

রাজনৈতিক উত্তেজনা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে। একদিকে ঢাকার রাজপথে ভারত-বিরোধী স্লোগান, অন্যদিকে দিল্লির কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী— এই টানাপোড়েনে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দুই দেশের সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ কি পারবে ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে? নাকি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে এই অচলাবস্থা? নজর রাখছে বিশ্ব।