অষ্টম বর্ষে ‘আনন্দমঠ’! দুস্থ শিশুদের শিক্ষার পাঠ আর শিকড়ের টান, খড়দহ রহড়ায় উজ্জ্বল অনুষ্ঠান।

সেবামূলক কাজ আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে পা দিল অষ্টম বর্ষে। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ রহড়ার স্বামী পুণ্যানন্দ মুক্তমঞ্চে গত ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আনন্দমঠ’-এর বার্ষিক উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। পিছিয়ে পড়া দুস্থ শিশুদের মূলস্রোতে ফেরানো এবং উত্তর প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের বীজ বপন করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
চাঁদের হাট খড়দহে: এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ইন্টারন্যাশনাল বেদান্ত সোসাইটির স্বামী অচ্যুতানন্দ মহারাজ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফুটবলার রঞ্জিত মুখার্জি এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রশান্ত কুমার মারিক। বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন প্রখ্যাত পর্বতারোহী করুণা প্রসাদ মৈত্র, যিনি ২০২৫-এর শেষে আমাজনে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ইতিহাস গড়েছিলেন।
মলাট উন্মোচন ও প্রতিযোগিতা: অনুষ্ঠানে ‘আনন্দমঠ’ পত্রিকার সপ্তম সংখ্যা ‘মহীয়সী নারী’-র আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার পঞ্চকন্যা’ বিষয়ের ওপর আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার বিশেষ মুহূর্ত: উদ্বোধনী সঙ্গীত, নৃত্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের সংক্ষিপ্তাংশ দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে অনুষ্ঠানের সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল মহাভারতের দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের প্রেক্ষাপটে বর্তমান সমাজের নারী নির্যাতনের প্রতিফলন। যা দর্শকদের মনে গভীর রেখাপাত করে। সঙ্গীতের মূর্ছনায় মাতিয়ে রাখেন অত্রি দাস, পুষ্পিতা গুহ রায় সহ অন্যান্যরা।
সম্পাদকের কথা: আনন্দমঠের কর্ণধার মিতালী মুখার্জি বলেন, “আমরা মূলত চেষ্টা করছি নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড় এবং স্বদেশের দিকে ফিরিয়ে আনতে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দূরদূরান্ত থেকে আসা শিল্পী ও দর্শকদের উৎসাহ আমাদের পথচলাকে আরও শক্তি জুগিয়েছে।” তিনি ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর সম্পাদক মিলন খামারিয়া সহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সেবা ও সু-সংস্কৃতির এই আয়োজন খড়দহবাসীকে এক সুস্থ সমাজের বার্তা দিল।