দাউদাউ করে জ্বলছে বীরভূমের মাঠ! নাড়া পোড়ানোয় বিপন্ন প্রকৃতি, চাষিদের দাবিতে বড়সড় অস্বস্তিতে প্রশাসন।

শীতের ভোরে বীরভূমের গ্রামীন আকাশ এখন কুয়াশায় নয়, ঢেকেছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায়। জেলা জুড়ে কৃষি দফতরের হাজারো প্রচার, মাইকিং আর রোড-র্যালি চললেও বাস্তবে ছবিটা বদলায়নি। দুবরাজপুর থেকে হেতমপুর— মাঠের পর মাঠ এখন ছাই আর আগুনের কবলে। কৃষকদের দাবি আর প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে দুস্তর ব্যবধান এবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
প্রচার কি শুধু ফাইলেই সীমাবদ্ধ? দুবরাজপুর ব্লকের লোবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গেলেই চোখে পড়ছে মাঠের পর মাঠ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার দৃশ্য। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কৃষকরা এই মারাত্মক ক্ষতির বিষয়ে অন্ধকারে। স্থানীয় চাষি শেখ রফিক বা বাবলু ডোমদের সাফ কথা, “নাড়া পোড়ালে মাটির ক্ষতি হয়, তা আমাদের কেউ বলেনি। আমরা তো জানি এতে মাটি ভালো হয়।” তাঁদের দাবি, কৃষি দফতর থেকে কেউ কখনও তাঁদের কাছে এসে নাড়া পোড়াতে নিষেধ করেননি।
কেন এই সর্বনাশা পথ? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে হারভেস্টার বা আধুনিক যন্ত্রে ধান কাটার ফলে জমিতে খড় বা নাড়া অনেক বেশি থেকে যায়। দ্রুত জমি পরিষ্কার করে পরের চাষের জন্য প্রস্তুত করতেই চাষিরা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এর ফলে:
মাটির উপকারী বন্ধু জীবাণু পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
মাটির উর্বরতা শক্তি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।
উৎপন্ন ধোঁয়ায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ছড়াচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি বনাম বাস্তবতা: দুবরাজপুর ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তা মঙ্গল দাস স্বীকার করেছেন যে, নাড়া পোড়ানো মাটির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর দাবি, দফতর থেকে নিয়মিত লিফলেট, ব্যানার ও প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। সরকারি প্রচার যদি চাষিদের কানেই না পৌঁছায়, তবে সেই লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যানার-ফেস্টুনের সার্থকতা কোথায়, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বীরভূমের এই ধোঁয়াশা কাটাতে প্রশাসন কি আরও কঠোর হবে, না কি প্রচারের নামে কেবল ‘রোড র্যালি’তেই সীমাবদ্ধ থাকবে সরকারি কাজ? নজর রাখছে জেলাবাসী।