বিধানসভায় গৃহযুদ্ধ! ঋণ বণ্টন নিয়ে খোদ শাসক দলেই তুমুল ‘বিদ্রোহ’, মেজাজ হারিয়ে মেয়াদের হুঁশিয়ারি প্রবীণ নেতার।

বিধানসভার অন্দরে এবার শাসক দলের বিধায়কদেরই ‘বিদ্রোহ’! উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঋণ ও তহবিল বণ্টন নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই ফাটল ধরল রাজ্য বিধানসভায়। একদলের বিধায়কদের অভিযোগ— নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, আর বঞ্চিত করা হচ্ছে অন্য কিছু কেন্দ্রকে। এই ‘বৈষম্য’ নিয়ে অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই শুরু হয় শাসক বনাম শাসক শিবিরের নজিরবিহীন কাজিয়া।
বঞ্চনার অভিযোগে উত্তপ্ত অধিবেশন: এদিন প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন বেশ কয়েকজন বিধায়ক সরব হয়ে দাবি করেন, সামাজিক ন্যায়ের কথা বললেও বাস্তবে সরকার সমানভাবে টাকা দিচ্ছে না। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এবং পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোতে ঘোষিত ঋণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। বিধায়কদের দাবি, “রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু এলাকাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন যদি সবার হয়, তবে ঋণ বিতরণে কেন এই পক্ষপাত?”
প্রবীণ নেতৃত্বের কড়া দাওয়াই: পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে আসরে নামেন দলের এক প্রবীণ নেতা। বিধায়কদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে গিয়ে তিনি সাফ জানান, সরকার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে এবং পাঁচ বছর পূর্ণ করেই ছাড়বে। নেতৃত্বের মেয়াদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকতে পারে, তবে তা যেন সরকারের স্থায়িত্বকে দুর্বল না করে— এমন কড়া বার্তাও দেন তিনি।
লিখিত অভিযোগের তলব: হট্টগোলের মাঝে প্রবীণ নেতৃত্ব আরও বলেন, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। তবে যদি কোথাও প্রশাসনিক ত্রুটি থাকে, তবে বিধায়করা যেন তা লিখিতভাবে জানান। তাঁর এই আশ্বাসের পরেও অধিবেশনে উত্তেজনা কমেনি। জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বিধানসভা হলো মানুষের হয়ে কথা বলার মঞ্চ, সেখানে বঞ্চনার কথা তোলা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার।
বিরোধীদের কটাক্ষ: শাসক দলের এই ‘খোলামকুচি’ লড়াই দেখে হাত গুটিয়ে বসে নেই বিরোধীরাও। তাদের অভিযোগ, সরকারের মধ্যে কোনো সংহতি নেই, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি— এটি কোনো ফাটল নয়, বরং দলের ভেতরেই সুস্থ গণতন্ত্রের প্রতিফলন।
উন্নয়ন তহবিলের এই অসম বণ্টন কি তৃণমূল স্তরে বড় কোনো ক্ষোভের ইঙ্গিত? না কি স্রেফ সমন্বয়ের অভাব? বিধানসভার এই বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।