SIR-এর শুনানির নোটিশ মিলবে কবে থেকে? জেনেনিন কারা ডাক পেতে পারেন?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করতে এবার চূড়ান্ত তৎপর নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এবার শুরু হচ্ছে ‘শুনানি’ বা হিয়ারিং পর্ব। আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ভোটারের বাড়িতে পৌঁছাতে শুরু করেছে কমিশনের বিশেষ নোটিস।
কাদের জন্য এই নোটিস? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, মূলত দু’টি স্তরে এই যাচাই প্রক্রিয়া চলবে:
-
৩০ লক্ষ ৫৯ হাজার ‘নো ম্যাপিং’ ভোটার: যাঁদের নামের সাথে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কোনও যোগসূত্র (Mapping) পাওয়া যায়নি, তাঁদের প্রত্যেককে আলাদা করে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
-
১ কোটি ৩৬ লক্ষ ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার: খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও তাঁদের দেওয়া এনুমারেশন ফর্মে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। প্রথমে বিএলও-রা (BLO) এঁদের বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন, তাতে সন্দেহ দূর না হলে তবেই ডাকা হবে শুনানিতে।
শুনানির প্রক্রিয়া ও সময়সীমা:
-
নোটিস পাওয়ার ৭ দিন: নোটিস হাতে পাওয়ার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ভোটারকে শুনানিতে উপস্থিত হতে হবে।
-
কোথায় হবে শুনানি: প্রতিটি বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন স্থানীয় কেন্দ্রে শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নোটিসটিতেই উল্লেখ থাকবে।
-
শেষ তারিখ: এই পুরো প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
-
চূড়ান্ত তালিকা: শুনানি শেষে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে ২০২৬-এর ফাইনাল ভোটার লিস্ট।
কী কী নথি সঙ্গে রাখতে হবে? পরিচয় এবং ঠিকানার প্রমাণের জন্য কমিশন মোট ১৩টি নথিকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:
-
জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate)
-
পাসপোর্ট
-
প্যান কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্স
-
শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট
-
সরকারি চাকরির পিটিও বা পরিচয়পত্র
-
আধার কার্ড: এটি শুধুমাত্র সচিত্র পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রাহ্য হবে, এর সাথে অন্য একটি সাপোর্টিং নথি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিশেষ সুবিধা ও ছাড়: যাঁদের বয়স ৮৫ বছরের বেশি, তাঁদের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিশন অনুমোদন দিলে এঁদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়েই শুনানি করা হতে পারে। এছাড়া, সংগত কারণ দেখাতে পারলে শুনানির জন্য অতিরিক্ত সময়ও পাওয়া যেতে পারে।