বড়দিনের কেকে বিষাক্ত রং! শহরের নামী-দামী কারখানায় পুরসভার হানা, উৎসবের আগে বড় বিপদ?

শীতের শুরুতেই শহরে এখন উৎসবের মেজাজ। নলেন গুড় আর জয়নগরের মোয়ার পাশাপাশি বাঙালির পাতে এখন মাস্ট বড়দিনের কেক। কিন্তু আপনি যে কেকটি পরম তৃপ্তিতে খাচ্ছেন বা প্রিয়জনকে খাওয়াচ্ছেন, তা কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? বড়দিনের আগেই শহরের কেক প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুরনিগমের খাদ্য নিরাপত্তা শাখা।

অভিযানে কী মিলল? সামনেই বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ। শহরবাসীর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই শহরের ৩০টিরও বেশি ছোট-বড় কেক কারখানায় হানা দিয়েছেন পুর-আধিকারিকরা। অভিযানে যা উঠে এসেছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক:

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ: বহু মাঝারি ও ছোট কারখানায় কেক তৈরির পাত্র এবং সরঞ্জাম অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।

বিষাক্ত রং: কেকে মেশানো হচ্ছে খাবারের অযোগ্য মারাত্মক রাসায়নিক রং, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

নিম্নমানের ক্রিম: কেকের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ক্রিমের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে একাধিক জায়গায়।

পুরসভার কড়া পদক্ষেপ: কলকাতা পুরনিগমের খাদ্য নিরাপত্তা শাখার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শহরে প্রায় ১০০টির মতো কেক কারখানা এবং অগুনতি দোকান রয়েছে। প্রতিটি জোন ধরে ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। মূলত কেক তৈরির উপকরণের মান, হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতা এবং এক্সপায়ারি ডেট—এই তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখছেন কর্মীরা।

লাগাতার চলবে নজরদারি: পুরনিগম সূত্রে খবর, এই অভিযান শুধু এক বারের জন্য নয়। আগামী বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দফায় দফায় এই তল্লাশি চলবে। যেসব সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা সংশোধন করছে কি না তা ফের যাচাই করা হবে। নামী প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত ‘ক্লিন চিট’ পেলেও কোনো শিথিলতা দেখাতে নারাজ প্রশাসন।

বিশেষ সতর্কবার্তা: উৎসবের মরসুমে রাস্তাঘাটের চকচকে কেক কেনার আগে তার গুণমান এবং প্যাকেজিংয়ের তারিখ অবশ্যই দেখে নিন। সামান্য অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।