“দম থাকলে পুলিশ ছেড়ে একা আয়!” পার্থর চ্যালেঞ্জের পাল্টা হুঙ্কার অর্জুনের, ধুন্ধুমার ব্যারাকপুর,

ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরগরম ভাটপাড়ার মেঘনা মোড়। বুধবার প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কর্মীরা। পাল্টা বিজেপি কর্মীরাও ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলে তেড়ে আসায় পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

পার্থ বনাম অর্জুন: চ্যালেঞ্জের শুরু যেখানে বিবাদের সূত্রপাত মঙ্গলবার। গারুলিয়ার এক সভা থেকে অর্জুন সিংকে নিশানা করে পার্থ ভৌমিক বলেছিলেন, “অর্জুন সিং বলেছিলেন ‘জয় বাংলা’ বললে মারবেন। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কাল ওঁর বাড়ির সামনে গিয়ে ছেলেরা জয় বাংলা স্লোগান দেবে। ক্ষমতা থাকলে অর্জুন সিং একজনের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক।” সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই এদিন জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের নেতৃত্বে অর্জুনের গড় বলে পরিচিত ভাটপাড়ায় জমায়েত হয় তৃণমূল।

মাঠে নামল কমব্যাট ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী: বিক্ষোভের আঁচ পেতেই অর্জুন সিংয়ের বাসভবন ‘মজদুর ভবন’-এর সামনে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করে ব্যারাকপুর কমিশনারেট। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। অর্জুনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও এদিন সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। পুলিশের ব্যারিকেড থাকায় দু’পক্ষ মুখোমুখি হলেও বড়সড় রক্তক্ষয় এড়ানো গিয়েছে।

হুঁশিয়ারি ও পালটা হুঁশিয়ারি: বিক্ষোভের শেষে বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম চড়া সুরে বলেন, “অর্জুন সিং এখন হারা সৈনিক, ভয় পেয়ে ঘরে ঢুকে গেছেন। ওঁর যদি সাহস থাকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছেড়ে আসুক, আমিও পুলিশ ছেড়ে যাব। তখন দেখব কার কত দম!”

পাল্টা জবাবে অর্জুন সিং বলেন, “পুলিশের পাহাড়ায় এসে দাদাগিরি সাজে না। পার্থ ভৌমিক বাপের বেটা হলে পুলিশ ছেড়ে একা আসুক। ওঁর ভয়ে অর্জুন সিং পালায়নি, বরং ওরাই ছ’মাস খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

ভোটের আগে ভাটপাড়ায় তৃণমূল-বিজেপির এই ‘স্লোগান যুদ্ধ’ আবারও প্রমাণ করল, ব্যারাকপুরের রাজনীতির রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই শিবিরই এক চুল জমি ছাড়তে নারাজ।