“দশরথের শ্রাদ্ধ এখানেই করেছিলেন শ্রীরাম!”-তপ্তী নদীর ঘাটে লুকিয়ে থাকা ১২ জ্যোতির্লিঙ্গের রহস্য কি?

অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে সারা বিশ্ব যখন মাতোয়ারা, তখন মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার তপ্তী নদীর নাগরী ঘাটে এক প্রাচীন ইতিহাস নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। লোকগাঁথা অনুযায়ী, বনবাসকালে ভগবান শ্রী রাম স্বয়ং এই পবিত্র তীরে পদার্পণ করেছিলেন এবং পিতা রাজা দশরথের আত্মার শান্তির জন্য এখানে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলেন।

একই স্থানে ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ: এই নাগরী ঘাটের বিশেষত্ব হলো এখানে শ্রীরামের নির্দেশে তৈরি ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষে ভগবান রাম এই মন্দিরগুলি নির্মাণের আদেশ দেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে ভক্তিভরে দর্শন করলে জীবনের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতি বছর মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে বিশাল মেলা বসে এবং জেলার সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

অহল্যাবাঈ হোলকরের অমর কীর্তি: শ্রীরামের ইতিহাসের সাথে এই ঘাটের গভীর যোগ রয়েছে দেবী অহল্যাবাঈ হোলকরেরও। বর্তমান মন্দিরগুলির কাঠামো তাঁর শাসনামলেই গড়ে তোলা হয়েছিল। ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিব-ভক্ত ও মন্দির নির্মাতা হিসেবে পরিচিত অহল্যাবাঈ এই ঘাটটির বিশেষ সংস্কার করিয়েছিলেন। অর্থাৎ, একদিকে ত্রেতা যুগের রামায়ন কথা এবং অন্যদিকে মারাঠা বীরত্বের ইতিহাস—উভয়ই মিলেমিশে রয়েছে এই পবিত্র স্থানে।

যুবকুলের প্রশংসনীয় উদ্যোগ: কালের নিয়মে এবং তপ্তী নদীর ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরগুলি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এবার সেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় নাগঝিরি এলাকার যুবকরা। ১০০ জনেরও বেশি তরুণের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা না করে নিজেরাই চাঁদা তুলে মন্দির মেরামত, সংস্কার ও রঙ করার কাজ শুরু করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা উমেশ সোনি জানান, “বন্যা এই ঐতিহ্যকে মুছে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই পবিত্র স্মৃতিকে নষ্ট হতে দেব না।” বর্তমানে এই সংস্কার কাজ পুরোদমে চলছে, যা বুরহানপুরের পর্যটন মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।