“সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করে দেব!” বাংলাদেশি নেতার চরম হুমকিতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, কড়া জবাব দিল্লির।

১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ঠিক আগের দিনই প্রতিবেশী দেশের এক ছাত্র নেতার বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের পারদ চড়ল কয়েক গুণ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি অর্থাৎ ‘সেভেন সিস্টার্স’ (Seven Sisters)-কে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দেওয়ায় এবার গর্জে উঠল সাউথ ব্লক।

ঠিক কী বলেছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
সম্প্রতি ঢাকায় ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ আয়োজিত এক মিছিল থেকে সরব হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ভারতের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ভারতের সব বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে প্রয়োজনে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করে দেব। যারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দিচ্ছে, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে।”

দিল্লির কড়া পদক্ষেপ: তলব করা হলো হাই কমিশনারকে
বিজয় দিবসের প্রাক্কালে সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার মতো এমন মন্তব্যে চুপ করে থাকেনি ভারতও। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে তলব করেছে। ভারতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় হাই কমিশনকে লক্ষ্য করে হুমকি এবং উসকানিমূলক দেশবিরোধী মন্তব্য কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

প্রতিবাদের মূল পয়েন্টগুলি:

সার্বভৌমত্বে আঘাত: ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন এবং কর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তার দাবি।

উসকানি বন্ধের আর্জি: সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভারত-বিরোধী প্রচার বন্ধের কড়া নির্দেশ।

কূটনৈতিক মহলের মতে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, এই ঘটনা তাতে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল। সেভেন সিস্টার্স নিয়ে এমন বিতর্কিত বয়ানের পর সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।