ভারতীয় আইটি কর্মীদের ওপর ট্রাম্পের ‘ভিসা বোমা’! এক ধাক্কায় ১ লক্ষ ডলার ফি বৃদ্ধিতে মাথায় হাত TCS-ইনফোসিসের।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় আইটি শিল্প। এইচ-১বি (H-1B) ভিসার নিয়মে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসা কর্মীদের জন্য ১ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা) ভিসা ফি ধার্য করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দক্ষ বিদেশি কর্মীদের আমেরিকায় আসার পথে এটি এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক বাধা বলে মনে করা হচ্ছে।
বিপাকে টিসিএস, ইনফোসিস ও কগনিজ্যান্ট: ব্লুমবার্গের এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের প্রথম সারির আইটি সংস্থাগুলি।
ইনফোসিস: গত চার বছরে সংস্থাটি যত নতুন কর্মী নিয়েছে, তার ওপর এই ফি কার্যকর হলে ইনফোসিসের খরচ বাড়ত ১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮,৪০০ কোটি টাকারও বেশি।
টিসিএস ও কগনিজ্যান্ট: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসকে প্রায় ৬,৫০০ এবং কগনিজ্যান্টকে ৫,৬০০-র বেশি কর্মীর জন্য এই বিশাল অঙ্কের ফি গুনতে হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নিয়মের ফলে সংস্থাগুলি এখন আমেরিকা থেকে কর্মী নিয়োগ করতে বা কাজ আউটসোর্স করতে বাধ্য হবে, যা ভারতীয় মেধার বিদেশ যাত্রায় বড় প্রতিবন্ধকতা।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ‘আমেরিকান কর্মীদের সুরক্ষা’। অভিযোগ উঠেছে, আইটি সংস্থাগুলি সস্তায় বিদেশি কর্মী এনে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান কমিয়ে দিচ্ছে। নতুন এই মোটা অঙ্কের ফি ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করবে এবং নিয়োগকর্তাদের দেশীয় প্রতিভা খুঁজতে বাধ্য করবে।
আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তা: ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ‘ইউএস চেম্বার অফ কমার্স’-সহ একাধিক গোষ্ঠী আদালতে মামলা দায়ের করেছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি এই ফি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তবে প্রতিভাবান ভারতীয় কর্মীরা মার্কিন মুলুকে যাওয়ার সুযোগ হারাবেন এবং সংস্থাগুলি তাদের কর্মকাণ্ড অন্য দেশে সরিয়ে নিতে শুরু করবে।
বর্তমানে লটারি প্রক্রিয়ায় এইচ-১বি ভিসার জন্য যে হুড়োহুড়ি চলত, ট্রাম্পের এই ‘এক লক্ষ ডলারের পাহাড়’ সেই চাহিদাকে এক ধাক্কায় তলানিতে নামিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।