জীবিত থেকেও ভোটার তালিকায় ‘মৃত’! সশরীরে পৌরসভায় হাজির হয়ে ডেথ সার্টিফিকেট চাইলেন যুবক।

দিব্যি সুস্থ শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কথা বলছেন— অথচ সরকারি খাতায় তিনি নাকি ‘মৃত’! খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই এমন আজব ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমানের কালনা। তালিকায় নিজের নামের পাশে ‘মৃত’ লেখা দেখে হতভম্ব হয়ে সশরীরে পৌরসভায় হাজির হলেন ৪২ বছর বয়সী পূর্ণ সাহা। অবাক করা বিষয় হলো, ক্ষোভে-দুঃখে কালনা পৌরসভার কাছে নিজেরই ডেথ সার্টিফিকেট দাবি করলেন তিনি!
ঠিক কী ঘটেছে? কালনা পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা পূর্ণ সাহা। গত ১৬ নভেম্বর নিয়ম মেনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে বিএলও (BLO)-র হাতে জমা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কাছে সেই জমার রিসিভ কপিও রয়েছে। কিন্তু বুধবার নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা বের হতেই দেখেন, তাঁর নাম রয়েছে ‘মৃত’ ব্যক্তিদের তালিকায়।
পৌরসভায় তুলকালাম: তালিকায় নিজেকে মৃত দেখে বুধবার দুপুরে সোজাসুজি কালনা পৌরসভায় পৌঁছে যান পূর্ণ। কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “কমিশনের খসড়া তালিকায় আমি তো মৃত! তাহলে দয়া করে আমাকে আমার ডেথ সার্টিফিকেটটা দিয়ে দিন।” তাঁর এমন দাবি শুনে থতমত খেয়ে যান পৌর কর্মীরা। পরে বাইরে বেরিয়ে পূর্ণ জানান, ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও কেন তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হলো, তার কোনো উত্তর পাননি তিনি।
ভুলের উৎস কোথায়? পূর্ণ সাহার স্ত্রীর অভিযোগ, বিএলও তাঁদের বাড়িতে না গিয়ে পাশের বাড়িতে ফর্ম নিতে এসেছিলেন। সেখানেই সব তথ্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএলও তাঁর স্বামীর ফর্মে নিজের হাতে ‘ডেথ’ লিখে দিয়েছেন, যা তাঁরা খেয়াল করেননি। তবে পূর্ণর স্ত্রী ও শাশুড়ির নাম তালিকায় ঠিকঠাকই রয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ বোস অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, পূর্ণর নাম সত্যিই মৃতের তালিকায় ঢুকে গিয়েছে। কালনার মহকুমাশাসক বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিএলও ও এইআরও (AERO)-র কাছে দ্রুত রিপোর্ট তলব করেছেন। রিপোর্ট পাওয়ার পরেই দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।