আমেরিকা না ইসলামি দুনিয়া, কাকে বেছে নেবেন পাক সেনাপ্রধান? ট্রাম্পের প্রস্তাবে কাঁপছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান কি তবে তাদের দীর্ঘকালীন পররাষ্ট্রনীতি বদলে ইজরায়েলের স্বার্থে গাজ়ায় সেনা পাঠাতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রস্তাব ঘিরে এখন তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। আর এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন পাকিস্তানের সর্বকালীন শক্তিশালী সেনাপ্রধান আসিম মুনির। আমেরিকার চাপ আর দেশের অন্দরে ধর্মীয় আবেগের টানাপোড়েনে চরম সংকটে পড়েছে ইসলামাবাদ।
ট্রাম্পের সেই ‘মাস্টারপ্ল্যান’: গাজ়ায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফেরাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০ দফার একটি পরিকল্পনা পেশ করেছেন, যা রাষ্ট্রপুঞ্জেও গৃহীত হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল অংশ হলো ‘International Stabilisation Force’ (ISF)। এই বাহিনী গাজ়ায় যুদ্ধবিরতি তদারকি করবে এবং প্যালেস্তাইন পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে। মিশর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই বাহিনীতে সেনা দিতে রাজি হলেও, ট্রাম্পের বিশেষ নজর এখন পাকিস্তানের ওপর।
মুনিরের উভয়সংকট: গত ছয় মাসে তিনবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন আসিম মুনির। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে আইএমএফ (IMF) থেকে ঋণ এবং বিপুল বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন তিনি। অন্যদিকে, পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই ইজরায়েলের ঘোর বিরোধী। খোদ পাক পাসপোর্টে লেখা থাকে যে এটি ইজরায়েল ভ্রমণের জন্য বৈধ নয়। এমন অবস্থায় গাজ়ায় সেনা পাঠালে দেশের ভেতরে কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনগুলোর বিদ্রোহের মুখে পড়তে পারেন মুনির।
হামাস বনাম পাকিস্তান: ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ISF বাহিনীকে হামাসের ‘নিরস্ত্রীকরণ’-এর কাজও করতে হতে পারে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার ইতিপূর্বেই সাফ জানিয়েছেন, গাজ়ায় শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও, হামাসকে নিরস্ত্র করা পাকিস্তানের কাজ নয়। ফলে ট্রাম্পের শর্ত মেনে হামাসের মুখোমুখি দাঁড়াতে পাকিস্তান কতটা ইচ্ছুক, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেছে।
কেন এই চাপ? পারমাণবিক শক্তিধর একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনার বিশ্বজুড়ে কদর রয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন কোনো মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে এই বাহিনীকে গাজ়ায় মোতায়েন করতে। যদি মুনির এই প্রস্তাবে রাজি না হন, তবে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে পাকিস্তানের নবগঠিত সুসম্পর্ক এবং আর্থিক সাহায্য দুই-ই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আবার রাজি হলে তুরস্ক বা ওমানের মতো বন্ধু দেশগুলোর বিরাগভাজন হওয়ার ভয় রয়েছে। সব মিলিয়ে গাজ়ার যুদ্ধ থামানোর চাবিকাঠি এখন আসিম মুনিরের হাতে, যা তাঁর সামরিক ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কঠিনতম পরীক্ষা হতে চলেছে।