গালওয়ান পরবর্তী বরফ কি গলছে? দৈনিক উড়ান শুরুর ঘোষণা চীন-ভারত মৈত্রীর নতুন সংকেত।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। ভারত ও চীনের মধ্যে আকাশপথে যাতায়াত নিয়ে এক বড়সড় এবং স্বস্তির খবর সামনে এল। ‘চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স’ ঘোষণা করেছে যে, আগামী ২ জানুয়ারি থেকে দিল্লি এবং সাংহাইয়ের মধ্যে প্রতিদিন নন-স্টপ ফ্লাইট পরিষেবা শুরু হচ্ছে। দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তাপ কাটিয়ে আকাশপথের এই স্বাভাবিক ছন্দ ফেরাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষ এবং করোনা অতিমারির পর দুই দেশের বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর গত নভেম্বরে দিল্লি-সাংহাই রুটটি চালু হলেও সপ্তাহে মাত্র তিনটি ফ্লাইট চলত। কিন্তু যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় এবং আকাশচুম্বী চাহিদা দেখে এবার দৈনিক ফ্লাইট চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল এয়ারলাইন সংস্থাটি।
সময়সূচী ও কানেক্টিভিটি: চায়না ইস্টার্নের শীতকালীন সময়সূচী অনুযায়ী:
দিল্লি থেকে সাংহাই: ফ্লাইট MU564 সন্ধ্যা ৭:৫৫-এ ছেড়ে ভোর ৪:১০-এ সাংহাই পৌঁছাবে।
সাংহাই থেকে দিল্লি: ফ্লাইট MU563 দুপুর ১২:৫০-এ রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৫:৪৫-এ দিল্লিতে নামবে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভারতের ৩৯টি শহরের যাত্রীরা এখন সিঙ্গেল টিকিটে দিল্লির মাধ্যমে সাংহাই এবং সেখান থেকে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
কলকাতা ও মুম্বাইবাসীর জন্য সুখবর: কেবল দিল্লি নয়, জানা গেছে চায়না ইস্টার্ন তাদের ব্যবসা আরও প্রসারিত করতে চায়। খুব শীঘ্রই কলকাতা-কুনমিং রুট পুনরায় চালু করা এবং মুম্বাই-সাংহাইয়ের মধ্যে নতুন রুট খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে পাইপলাইনে।
কূটনৈতিক বরফ গলছে? ২০২০-এর সীমান্ত উত্তেজনার পর গত অক্টোবরে দেপসাং এবং ডেমচোকে সেনা প্রত্যাহার চুক্তি হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের পর কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা এবং এখন দৈনিক বিমান পরিষেবা শুরু হওয়া— এই সবটাই সম্পর্কের উষ্ণতা ফেরার বড় ইঙ্গিত। যাত্রী ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই ২০২৬-এর শুরুতে এই পদক্ষেপ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।