ভবানীপুরে মমতার নিজের ভোটেই ধস! ৪৫ হাজার ভোটার উধাও, ‘জীবিতকে মৃত’ দেখানোর অভিযোগে রণংদেহী দিদি।

খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই ভোটার তালিকায় লঙ্কাকাণ্ড! বিশেষ সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়ার পর খসড়া তালিকায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ভোটার বাদ যাওয়া নিয়ে সরাসরি অন্তর্ঘাত ও যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।
বিস্ফোরক পরিসংখ্যান: নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে (১৫৯) মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। কিন্তু ম্যাপিং ও ডিজিটাইজেশনের পর খসড়া তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৫০৯-এ। অর্থাৎ, ২১.৭১ শতাংশ বা ৪৪,৭৮৬ জন ভোটার এখন তালিকার বাইরে!
কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ও মমতার কড়া বার্তা: মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের অফিসে ভবানীপুরের বুথ স্তরের কর্মীদের (BLA) নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় এই বড় গরমিল দেখে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মমতা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো? তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
বাড়ি বাড়ি যাচাই: যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে ফের খোঁজ নিতে হবে।
হেল্প ক্যাম্প: পাড়ায় পাড়ায় তৃণমূলের ‘মে আই হেল্প ইউ’ ক্যাম্পগুলিকে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে।
শুনানিতে সাহায্য: কমিশনের শুনানির সময় সাধারণ মানুষের নথিপত্র জোগাড়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
কেন এই বিপুল নাম বাদ? তৃণমূলের অন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ৭০, ৭২ ও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে সবথেকে বেশি নাম কাটা গিয়েছে। অনেক হিন্দিভাষী ভোটার নিজেদের আদি রাজ্যে নাম রাখায় এখানে নাম হারিয়েছেন। আবার বিএলএ-দের দাবি, বহুতল আবাসনের অনেকেই ফর্ম পূরণ করে জমা দেননি। তবে মমতা সাফ জানিয়েছেন, কোনো অজুহাত চলবে না। বিশেষ করে বহুতল আবাসনগুলিতে বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুনানিই এখন অগ্নিপরীক্ষা: যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির (Annexure-4) মধ্যে অন্তত একটি দেখাতে হবে। অন্যথায় স্থায়ীভাবে নাম বাদ যেতে পারে। নিজের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে এবার তাই কর্মীদের হাতে-কলমে লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।