সবুজ বিপ্লব ভারতীয় রেলে! ট্র্যাকে নামছে বিশ্বের শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন, চালকদের জন্য নয়া দিগন্ত

ডিজেল ও বিদ্যুতের পর এবার জলের শক্তিতে ছুটবে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। সংসদে বড় ঘোষণা করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানালেন, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের পাইলট প্রজেক্টের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি ভারতের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

বিশ্বের দীর্ঘতম ও শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন রেলমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ভারতের এই হাইড্রোজেন ট্রেনটি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ এবং শক্তিশালী। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

১০টি কোচ: ট্রেনটিতে ৮টি যাত্রীবাহী কোচ এবং ২টিতে ড্রাইভিং পাওয়ার কার রয়েছে।

বিশাল ক্ষমতা: ট্রেনের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ কিলোওয়াট।

দূষণহীন যাত্রা: এই ট্রেন থেকে কোনো ক্ষতিকারক ধোঁয়া নির্গত হবে না, যা পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে।

জ্বালানি আসবে কোথা থেকে? এই ট্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ তৈরি করতে হরিয়ানার জিন্দে (Jind) একটি বিশেষ হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যুতের সাহায্যে জল বিশ্লেষণ করে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হবে।

ক্যারিয়ার গাইড: হাইড্রোজেন ট্রেন চালক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? অনেকের ধারণা ছিল এই ট্রেনের চালক হতে আলাদা কোনো কোর্সের প্রয়োজন। কিন্তু রেল সূত্রে খবর, প্রক্রিয়াটি আগের মতোই সহজ।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই আইটিআই (ইলেকট্রিশিয়ান, ফিটার, মেকানিক) অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা পাস হতে হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া: প্রথমে ভারতীয় রেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট (ALP) হিসেবে নিযুক্ত হতে হবে। পরবর্তীতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের পর হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর সুযোগ মিলবে।

বেতন কাঠামো: একজন লোকো পাইলটের প্রাথমিক বেতন সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা (ভাতা সহ) হয়ে থাকে। তবে অভিজ্ঞতা বাড়লে এবং হাইড্রোজেন ট্রেনের মতো বিশেষ প্রজেক্টে যুক্ত থাকলে মাসিক বেতন ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ভারতীয় রেলের এই ভোলবদল কেবল যাত্রীদের সুবিধাই দেবে না, বরং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন সুযোগ তৈরি করবে।