আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল কলকাতা! ‘অঙ্গীকার যাত্রা’ শেষ হল কলেজ স্ট্রিটে, সোচ্চার নির্যাতিতার পরিবার

মহিলাদের আহ্বান এবং নারী সুরক্ষার দাবিতে গত ৯ ডিসেম্বর কোচবিহার, কাকদ্বীপ, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া থেকে শুরু হওয়া ‘নারীর মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার যাত্রা’ মঙ্গলবার কলকাতায় শেষ হল। যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠানটি হয় কলেজ স্ট্রিটে। এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা ও মা-সহ তাঁর সহকর্মী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। সকলেই আশাবাদী, এই আন্দোলনের মাধ্যমে আরজি করের নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পাবেন।

মঙ্গলবার কলেজ স্ট্রিটের সমাবেশে যোগ দিয়ে অভয়ার মা বলেন, “আমার ভালো লাগছে যে এত মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা ন্যায় বিচারের দাবিতে অঙ্গীকার যাত্রায় সামিল হয়েছেন। শুধু আমার মেয়ে নয়, গোটা দেশের যে প্রান্তে মেয়েদের উপর অত্যাচার সংঘটিত হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সকলে সোচ্চার হচ্ছেন। আমার বিশ্বাস এই আন্দোলন, এই বিচারের দাবি চলতে থাকলে ন্যায়বিচার মিলবেই।”

‘শিক্ষিত হলেই সমস্যার সমাধান ঘটবে না’, বিস্ফোরক নির্যাতিতার বাবা
অভয়ার বাবা বলেন, “একদিন না-একদিন বিচার মিলবেই। আমরা বিশ্বাসী।” সমাবেশের স্থলে হাথরস, দিল্লি-সহ বিভিন্ন প্রান্তের ঘটনার পোস্টার-হোর্ডিং ছিল। তিনি বলেন, দিল্লির ক্ষেত্রে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার নির্যাতিতাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উল্টো। তিনি বলেন, “শিক্ষিত হলেই সমস্যার সমাধান ঘটবে না, আমার মেয়ের ক্ষেত্রেই তা প্রমাণিত।”

তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “ওর সহকর্মী-সিনিয়ররা যদি চাইতো, তাহলে আমার মেয়েকে হয়তো বাঁচানো যেত। বা ন্যায়বিচার পাওয়া যেত। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হল না।” তারপরেও মানুষ সোচ্চার হচ্ছেন বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে, আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো বলেন, “ন্যায়বিচার মিলতেই হবে। লড়াই সংগ্রাম করেই ন্যায় বিচারকে ছিনিয়ে আনতে হবে। সেজন্যই তো এই অঙ্গীকার যাত্রা। ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনার জন্যই অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে।”

‘নবজাগরণের আলো আজ অন্ধকারে আচ্ছন্ন’
‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’-র তরফে ডাকা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষা মৈত্রেয়ী বর্ধন রায়, চলচ্চিত্রকার শতরূপা সান্যাল, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আইনজীবী ও সমাজকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা।

তাঁদের সম্মিলিত বক্তব্য, “নবজাগরণের মধ্য দিয়ে নারীরা যে প্রথম আলো দেখেছিল, তা আজ ক্রমাগত অন্ধকারে আচ্ছন্ন হচ্ছে।” তাঁরা বলেন, প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারীর অবমাননা, লাঞ্ছনা, ধর্ষণ, খুনের মতো মর্মন্তুদ সংবাদ ভেসে আসছে। আরজি কর, কসবা ল’কলেজ, দুর্গাপুর, উলুবেড়িয়া, এসএসকেএম-এর মতো ঘটনাগুলো রাজ্যে নারী নির্যাতনের দৈনন্দিন ছবি তুলে ধরে।

তাঁরা অভিযোগ করেন, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শাসক দলগুলি ও প্রভাবশালীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, বিচার মেলেনি।” আয়োজকদের দাবি, এই অবিচারের বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়েই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মানুষজন এই সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।