‘গুজরাট দাঙ্গার পরেও মোদী পদত্যাগ করেননি’, অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগকে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বললেন তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী

মেসি কাণ্ডে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফার ঘটনায় যখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষের ঝড় বইছে, ঠিক তখনই তাঁর পাশে দাঁড়ালেন বলাগড়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক এবং বিশিষ্ট লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। প্রকাশ্যে তিনি অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপকে ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মনোরঞ্জন ব্যাপারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি অরূপ বিশ্বাসকে শুধু একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং ‘আদ্যোপান্ত একজন ভালো মানুষ’ হিসেবে চেনেন। এই ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে তিনি বলেন, মেসি যেদিন যুবভারতীতে এসেছিলেন, সেদিন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে অরূপের উপস্থিতি ছিল কেবল নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব ও সৌজন্যতা।
আয়োজকদের ঘাড়েই দায় চাপালেন বিধায়ক
যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রীকে দায়ী করতে নারাজ মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তাঁর মতে, সেদিন মাঠে যে অব্যবস্থা হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আয়োজকদের। তিনি মনে করেন, যদি সেদিন একটি খোলা গাড়িতে মেসিকে একবার মাঠ ঘুরিয়ে দেওয়া হতো, তবে দর্শকরা এতটা ক্ষুব্ধ হতেন না। সাধারণ মানুষের মেসিকে এক ঝলক দেখার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
‘বিজেপি ওত পেতে ছিল’, বিস্ফোরক মনোরঞ্জন
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মনোরঞ্জন ব্যাপারী সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, “বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল এইরকম একটা সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে বসেছিল। সুযোগ পাওয়া মাত্র তাঁরা যা করার তা করে দিয়েছে।” অর্থাৎ, তাঁর দাবি, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মোদী-যোগীর সঙ্গে তুলনা টেনে ‘নজির’ বললেন অরূপের পদত্যাগ
তদন্ত চলাকালীন অরূপ বিশ্বাসের মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অত্যন্ত প্রশংসনীয়’ ও দায়িত্বশীল বলে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশের একাধিক বড় ঘটনার উদাহরণ টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, “গুজরাট দাঙ্গার পরে মোদী পদত্যাগ করেননি। পুলওয়ামা বা পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পরেও পদ আঁকড়ে বসে ছিলেন। কুম্ভ মেলায় অসংখ্য মানুষ মারা যাওয়ার পরেও যোগী আদিত্যনাথ পদত্যাগ করেননি।”
মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মতে, যুবভারতীতে যা ঘটেছে, তার দায় স্বীকার করে অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ এই ঘটনাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। তিনি মনে করেন, ‘মা-মাটি-মানুষের সরকার’ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই এমন নৈতিক সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নজির হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য তৃণমূল শিবিরে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল।