বিবাহজনিত সমস্যায় বাড়ছে আত্মহনন! 2023 সালে 1.71 লাখের বেশি মৃত্যু, রাজ্যসভায় আইনি ব্যর্থতার অভিযোগ সাংসদের

বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সমস্যা ও টানাপোড়েনের জেরে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা ভয়াবহ হারে বেড়েছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর তথ্য তুলে ধরে এমনটাই দাবি করলেন কেরলের সাংসদ হরিশ বীরান। তিনি রাজ্যসভায় জানান, ২০২৩ সালে মোট ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৪১৮ জন নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন, যার অধিকাংশের নেপথ্যে রয়েছে বিবাহজনিত সমস্যা।

মঙ্গলবার রাজ্যসভার জিরো আওয়ারে এই তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাংসদ হরিশ বীরান ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় বিয়েকে একটি ‘পবিত্র বন্ধন’ ও ‘আস্থার প্রতীক’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষেত্রবিশেষে এই বন্ধন এখন ‘এক নীরব অত্যাচারের প্রতিমূর্তি’, যা মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।

‘আইনি ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয়’
বিবাহজনিত সমস্যা থেকে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার বিষয়টিকে সাংসদ সমাজের নৈতিক এবং আইনি ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। সমাজবিজ্ঞানে বিয়েকে যে ‘প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, সাংসদ মনে করেন ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় সেই প্রতিষ্ঠানেরই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কেরলের ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের এই সাংসদ ভারতীয় আইন ব্যবস্থার প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, “ভারতীয় নারীদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আমাদের দেশের আইন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনের থেকে অনেক বেশি শক্তিধর। কিন্তু সমস্যা হল আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে। আইন যে আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারিনি তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”

পণ ও গর্ভপাতজনিত মানসিক যন্ত্রণার উল্লেখ
নিজের দাবির সমর্থনে হরিশ বীরান ‘পণ সংক্রান্ত অত্যাচার’-এর কথা বলেন। তাঁর মতে, বিবাহিত মহিলাদের আত্মহননের ক্ষেত্রে পণ নিয়ে অত্যাচার এখনও সবথেকে বড় কারণ। এর পাশাপাশি, গর্ভপাতের মতো বিষয় মহিলাদের তীব্র মানসিক যাতনা দেয়। বিশেষ করে পরিবার পাশে না থাকলে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা একা একা সহ্য করতে হয়, যার ফলস্বরূপ অনেকে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

সাংসদের কথায়, বিবাহ সংক্রান্ত কারণে যখন কেউ নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেই যন্ত্রণা শুধু তাঁর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি গোটা পরিবারকে প্রভাবিত করে। সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ে সন্তানদের উপর, যাদের সারাজীবন ধরে সেই যন্ত্রণার ভার বইতে হয়। এই প্রবণতা কমাতে শুধু আইনের উপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বাড়ানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।