ভবানীপুর-নন্দীগ্রামেও বাদ ভোটার, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর শুরু রাজনৈতিক চাপান-উতোর, শুনানিতে ডাকা হবে ৩০ লক্ষ ভোটারকে

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। শুধু সাধারণ ভোটার নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও নাম বাদ গিয়েছে বহু ভোটারের।
মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার বুথ-তথ্য
ভবানীপুর: মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার কথা জানা গিয়েছিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বুথে ভোট দেন, সেখানে মোট ১২৭ জনের নাম বাদ পড়েছে।
নন্দীগ্রাম: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে বুথের ভোটার, সেখানেও ১১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার নাম বাদ যেতে পারে বলে আগেই জল্পনা ছিল।
ভোটারদের জন্য কমিশনের বার্তা
এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠলেও, নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না-হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
বিএলও-র কাছে যান: আগামী এক মাস ধরে বিএলও (BLO)-রা বুথে বুথে বসবেন। অনলাইনে নাম খুঁজে না পেলে ভোটাররা সরাসরি নির্দিষ্ট বুথে গিয়ে বিএলও-র কাছে থাকা হার্ডকপি থেকে নিজের নাম যাচাই করতে পারবেন। এছাড়া ‘এএসডি’ (ASD) তালিকা সব বুথে ঝোলানো হয়েছে এবং সিইও (CEO) ওয়েবসাইটেও এই তথ্য দেখা যাচ্ছে।
অনলাইনে আবেদন: নাম খুঁজে না পেলে অনলাইনে ফর্ম-৬ পূরণ করে নাম তোলার জন্য আবেদন করা যাবে। উপযুক্ত নথি যাচাইয়ের পর শুনানিতে ডাকার মাধ্যমে নাম তালিকায় নথিভুক্ত করা হবে।
শুনানি ও চূড়ান্ত তালিকা
আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাদ পড়া ভোটাররা নাম নথিভুক্ত করার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন এবং খসড়া তালিকা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারবেন। এরপর কমিশন শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে, যা আগামী সপ্তাহ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
কমিশন সূত্রে খবর, ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। এছাড়া যাঁদের নাম নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বা ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) অবস্থায় রয়েছে, তাঁদেরও শুনানিতে ডাকা হবে। প্রতিটি শুনানিতে একজন ইআরও (ERO)-র সঙ্গে দশজন এইআরও (AERO) থাকবেন। মোট ১১ জন আধিকারিক প্রতিদিন প্রায় ১১০০ জনের শুনানি করবেন। সুষ্ঠু প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে শুনানি পর্ব লাইভ স্ট্রিমিং ও রেকর্ড করা হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকায় নাম থাকলেই একমাত্র ভোট দেওয়া যাবে।