‘বিজেপি ওয়ার্ড বলে বঞ্চনা’! ক্ষীরপাই পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে পথশ্রী প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ, শুরু রাজনৈতিক তরজা

রাজ্যে তৃণমূল পরিচালিত ক্ষীরপাই পুরসভার একটি মাত্র বিজেপি-জয়ী ওয়ার্ডকে পথশ্রী প্রকল্পের উন্নয়ন থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলল গেরুয়া শিবির। যদিও শাসক দল তৃণমূল এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাই পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে।
পথশ্রী-৪ প্রকল্পে নয়া উদ্যোগ
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে সরকারের ‘পথশ্রী-৪’ প্রকল্পের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে এই প্রথম গ্রামের পাশাপাশি শহরের রাস্তাঘাটও উন্নয়নের আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রকল্পে সারা রাজ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তার কাজ হবে এবং রাজ্যের ১২৮টি পুরসভার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৯১২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষীরপাই পুরসভার ১০টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ২৫টি রাস্তা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার জন্য ৪ কোটি ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৬৯ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে বঞ্চনার অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষীরপাই পুরসভার ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডকে পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় আনা হলেও বাদ পড়েছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডটি। এই ওয়ার্ডে বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে সুনিতা হালদার নির্বাচিত হন।
কাউন্সিলর সুনিতা হালদার বলেন, “৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি। শুধুমাত্র এই কারণেই তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়ন স্তব্ধ করে রেখেছে।” তিনি এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে শীঘ্রই বিজেপির পক্ষ থেকে আন্দোলন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দুর্ভোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। স্থানীয় বাসিন্দা পূর্ণিমা পাল ও মিতা পাহাড়িরা জানান, “সরকারি ঘর রয়েছে, কিন্তু যাওয়ার রাস্তা নেই। আমরা জমির আল দিয়ে যাতায়াত করি। বৃষ্টি হলে সাইকেল নিয়েও যেতে পারি না। এলাকায় প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে।” তাঁরা জানান, কাউন্সিলর এবং ‘দুয়ারে সরকার’-এ বহুবার আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি।
তৃণমূলের পালটা দাবি
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্ষীরপাই পুরসভার চেয়ারম্যান বিকাশ দাস বলেন, “আমি কয়েকদিন আগেই দায়িত্ব পেয়েছি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
তবে, বিজেপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের শহর সহ-সভাপতি তারক মণ্ডল তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “বিরোধীরা সবসময় সরকার-বিরোধী কথাই বলেন। চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বোর্ডের বেশিরভাগ মিটিংয়ে উপস্থিত থাকেন না। আর ক্ষীরপাই পুরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে রাস্তার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সেই কর্মসূচিতে রাস্তার জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি। তাই ওয়ার্ডটি পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় আসেনি। বঞ্চনার অভিযোগ ভিত্তিহীন।”