ভোটার কার্ড নয় আগে নাগরিকত্ব! মতুয়াদের আশ্বাসে সুপ্রিম ধাক্কা! রায় ঘোষণার পরই তড়িঘড়ি আসছে সার্টিফিকেট?

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর হওয়ার আবহে সবথেকে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সভাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেই সেই ডকেট নাম্বার ব্যবহার করে ভোটার লিস্টে নাম তুলে দেওয়া যাবে। এই আশ্বাসের ফলে ঠাকুরনগরে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দিতে শুরু করেন।
তবে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেই কেউ ভোটার লিস্টে নাম তুলতে পারবেন না। অর্থাৎ, প্রথমে তাঁদের ভারতের নাগরিক হতে হবে, তারপরেই তাঁরা ভোটাধিকার পাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাতারাতি হাজার হাজার মানুষের মোবাইলে সিএএ-এর সার্টিফিকেট আসার বার্তা (মেসেজ) আসতে শুরু করেছে। এর ফলে অনেকের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, বিশেষত যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। তাঁদের অনেকেই এখন মনে করছেন, হাতে নাগরিকত্বের কার্ড থাকায় আর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। যদিও নাগরিকত্ব পেলেও জন্মভূমির (বাংলাদেশ) সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার কষ্ট অনুভব করছেন কেউ কেউ।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ যেহেতু নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, এত স্বল্প সময়ে এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর কাছে সার্টিফিকেট পৌঁছে দেওয়া কি আদৌ সম্ভব?
প্রসঙ্গত, সিএএ-তে স্পষ্টতই বলা হয়েছে যে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাঁরা ভারতে এসেছেন এবং যাঁরা জাতিগত (Specified Community) শর্ত পূরণ করেন, তাঁরাই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই সমস্ত বিষয়গুলি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এবং তাঁদের আবেদন বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত তাঁরা ভারতের নাগরিক হিসাবে গণ্য হচ্ছেন না।