‘পুরো স্ক্যাম হয়েছে!’ মোটা টাকা দিয়েও দেখা গেল না মেসিকে, ভক্তদের কান্না আর বিশৃঙ্খলায় লণ্ডভণ্ড সল্টলেক স্টেডিয়াম

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫) কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক দুর্দান্ত ফুটবল ইভেন্টের বদলে ঘটল চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার নজিরবিহীন ঘটনা। বিশ্ব ফুটবলের মেগাস্টার লিওনেল মেসির আগমন উপলক্ষে এই শহর ফুটবলের মক্কা হিসেবে যে গ্ল্যামার ও ঐতিহ্য বহন করত, তা যেন এক লহমায় ফ্যাকাসে হয়ে গেল। হতাশ সমর্থক ও লণ্ডভণ্ড সল্টলেক স্টেডিয়াম—সব মিলিয়ে বাংলার ফুটবলে এই দিনটি ‘কালো দিন’ হিসেবে চিহ্নিত হলো।
মেসির আগমনকে ঘিরে যে ধরনের পেশাদার ব্যবস্থাপনা আশা করা হয়েছিল, তার ধারেকাছে কিছু দেখা যায়নি। মেসি যখন যুবভারতীতে প্রবেশ করেন, সিকিউরিটি অফিশিয়াল ও ইভেন্ট কর্মী বাদে বহু ‘বহিরাগত’ ব্যক্তি বারবার ফিল্ড অফ প্লে-তে ঢুকে পড়েন। যেখানে তারকার জন্য অনেকটা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা, সেখানে তারা রীতিমতো মৌচাকের মতো মেসিকে ঘিরে ধরেন। এই ভিড়ের কারণে গ্যালারিতে থাকা সাধারণ মানুষ তাঁকে প্রায় দেখতেই পাননি। এমনকি, মেসির সতীর্থ লুই সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি’পলকেও বেশ কয়েকবার বিরক্ত হতে দেখা যায়। প্রশ্ন উঠেছে, কাদের নির্দেশে এই বহিরাগতরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেলফির আবদার করার সাহস পেলেন?
সকাল ১১.৫২ মিনিটে মেসি যুবভারতী ছাড়তেই পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মেসিকে দেখতে না পাওয়ার রাগে ও হতাশায় বিরাট সংখ্যক মানুষ স্টেডিয়ামের ফেন্সিং ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন। ফুটবলপ্রেমী জনতা গ্যালারির চেয়ারও ভেঙে ফেলে এবং জলের বোতল ছুঁড়তে শুরু করে।
হতাশ সমর্থকরা ক্ষোভ উগড়ে দেন, “আমাদের সঙ্গে পুরো স্ক্যাম হয়েছে!” একজন ভক্ত কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “সেই সকালে এসেছিলাম। একবার ভগবানকে দেখব বলে। পারলাম না।” বেঙ্গালুরু থেকে অফিস ছুটি নিয়ে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, “সরকারের লোকরা সব ঘিরে ছিল। আমাদের দেখতেই দিল না।” আরেকজন ক্ষুব্ধ সমর্থক বলেন, “আমরা কী দেখব? নেতারাই তো সব ঘিরে রেখে দিয়েছিল। বাংলার মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। সরকারকে এর দায় নিতে হবে।”
হায়দরাবাদে যেখানে মেসি ইভেন্ট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে ফুটবলের মক্কা কলকাতায় এই চরম অব্যবস্থা আয়োজকদের পেশাদারিত্ব এবং নিরাপত্তার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।