পুতিনের জন্য ৪০ মিনিট অপেক্ষা, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলেন শেহবাজ! রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঢুকতে গিয়ে হাসির পাত্র পাক প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের জন্য দীর্ঘ ৪০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় সোশাল মিডিয়ায় ‘হাসির পাত্র’ হয়ে উঠলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী শহরে ‘International Year of Peace and Trust’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ফোরাম চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এর্ডোগানের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। অপেক্ষায় থাকা হতাশ শেহবাজ শরিফ আচমকা হল থেকে বেরিয়ে সোজা সেই কক্ষের দিকে যান। নিরাপত্তারক্ষীদের বেষ্টনী ভেঙে তিনি জোর করে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতে যান। নাটকীয়ভাবে, তিনি সীমানা অতিক্রম করার কিছু পরেই অবশ্য রক্ষীরা তাঁকে থামাতে সক্ষম হন।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাশিয়ার পতাকা লাগানো খালি চেয়ারের পাশে বসে থাকা অবস্থায় শরিফ এবং তাঁর প্রতিনিধিদল দৃশ্যত অধৈর্য এবং বিরক্ত।
RT India-এর ভিডিও ডিলিট, জানাল ভুল ব্যাখ্যার কথা:
ঘটনার ভিডিওটি প্রথমে RT India শেয়ার করলেও, পরে সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। ডিলিট করার কারণ হিসেবে পোস্টে লেখা হয়, “ঘটনার ভুল উপস্থাপনা হতে পারে।” এক্স হ্যান্ডেলে তারা বিস্তারিতভাবে লেখে, “তুর্কমেনিস্তানে শান্তি ও বিশ্বাস ফোরামে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফের অপেক্ষার বিষয়ে একটি পূর্ববর্তী পোস্ট আমরা মুছে ফেলেছি। এই পোস্টে ঘটনার ভুল উপস্থাপনা হতে পারে।”
শেহবাজ শরিফের এই ‘গেট-ক্র্যাশ’ প্রচেষ্টা দ্রুত এবং সংক্ষিপ্ত ছিল। প্রায় দশ মিনিটের মধ্যে, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী যেমন হঠাৎ করে কক্ষের দিকে গিয়েছিলেন, তেমনই হঠাৎ করেই সেখান থেকে বেরিয়েও যান। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনা অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
ভারতে পুতিনের উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রসঙ্গ:
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতে সফরে এসেছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে স্বাগত জানাতে পালাম বিমানবন্দরে নিজে গিয়েছিলেন। এমনকি চেনা নিয়ম ভেঙে পুতিন তাঁর নিজের অরাস সেনেট গাড়ি ছেড়ে মোদির ফরচুনা গাড়িতেই রওনা দেন। মোদি রুশ ভাষায় অনূদিত ভগবদ্গীতা উপহার দিয়েছিলেন পুতিনকে, যা যথেষ্ট নজর কেড়েছিল। এই আবহে তুর্কমেনিস্তানে শেহবাজ শরিফের এই অধৈর্যপূর্ণ আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হচ্ছে।