হুক্কা বার মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ! এলাহাবাদ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে উত্তরপ্রদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হলো হুক্কা পরিষেবা

উত্তরপ্রদেশের হুক্কা বার এবং রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য বড়সড় ধাক্কা দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধরনের হুক্কা বার এবং রেস্তোরাঁয় হুক্কা পরিষেবা নিষিদ্ধ করার পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে আদালত। বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ধূমপায়ীদের ব্যবসা করার বা বিনোদন দেওয়ার অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু অধূমপায়ীদের বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়ার মৌলিক অধিকারের চেয়ে তা কোনোভাবেই বড় হতে পারে না। ফলে এখন থেকে নির্ধারিত ধূমপান এলাকার অজুহাতেও আর হুক্কা চালানো যাবে না।

আইনের মারপ্যাঁচ এবং আদালতের কড়া ব্যাখ্যা

বিচারপতি শেখর বি. সরাফ এবং অবদেশ কুমার চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ হুক্কা বার ও রেস্তোরাঁ সংক্রান্ত একাধিক আবেদন খারিজ করে এই রায় ঘোষণা করেছে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ২০০৩ সালের ‘সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্য আইন’ (COTPA) এবং ২০০৮ সালের প্রবিধান অনুযায়ী জনসমক্ষে ধূমপান নিষিদ্ধ। নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকাগুলো এই নিয়মের ব্যতিক্রম মাত্র, যা কেবল ধূমপানের অনুমতি দেয়।

বিশেষ করে ২০১৭ সালে সংশোধিত নিয়ম ৪(৩) অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের পরিষেবা বা সার্ভিস দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। ফলে রেস্তোরাঁগুলো আর ‘স্মোকিং জোন’-এর দোহাই দিয়ে হুক্কা চালাতে পারবে না।

স্ব-পরিষেবা ও ভাড়ার যুক্তি খারিজ

আবেদনকারীদের তরফ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রেস্তোরাঁগুলো সরাসরি কোনো পরিষেবা দিচ্ছে না, বরং গ্রাহকরা নিজেরাই হুক্কা ব্যবহার করছেন কিংবা রেস্তোরাঁ কেবল সরঞ্জাম ভাড়া দিচ্ছে। তবে হাইকোর্ট এই সমস্ত যুক্তি একসুরে খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, হুক্কা একত্রিত করা, বাটিতে তামাক সাজানো, জল ভরা এবং কাঠকয়লা প্রস্তুত করার মতো জটিল প্রক্রিয়াগুলো কোনো সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। তাই নাম বদলিয়ে বা পরিষেবার সংজ্ঞা ঘুরিয়ে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

মৌলিক অধিকার ও পুলিশের ক্ষমতার বহাল

রায়ে সংবিধানের ২১ (জীবনের অধিকার) এবং ১৯(১)(জি) (ব্যবসা করার অধিকার)-এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, একজন সাধারণ মানুষের বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফার জন্য সাধারণ মানুষের এই মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। একই সঙ্গে COTPA আইনের অধীনে পুলিশকে তল্লাশি, বাজেয়াপ্তকরণ এবং জরিমানা আদায়ের যে আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা আদালত বহাল রেখেছে।

মুখ্য সচিব ও ডিজিপিকে কড়া নির্দেশ

এই রায়ের পর উত্তরপ্রদেশে হুক্কা বার ও এর সঙ্গে জড়িত পরিষেবা সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে। হাইকোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের একটি অনুলিপি ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং পুলিশ মহাপরিচালকের (DGP) কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, বেআইনি হুক্কা পরিষেবার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *