ট্রাম্পের ‘শুল্ক-নীতি’তে মার্কিন পার্লামেন্টেও তোলপাড়! ভারতকে স্বস্তি দিতে নতুন প্রস্তাব

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-সহ কয়েকটি দেশের ওপর বর্ধিত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত এবার মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে’ তাঁকে নতুন করে চাপে ফেলল। ভারতকে লক্ষ্য করে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক (বর্তমানে যা ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশ হয়েছে) অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে তিনটি পৃথক প্রস্তাব জমা পড়েছে।

তিন প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান— দেবরা রস, মার্ক ভেসি এবং রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই প্রস্তাব পেশ করেছেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনার সূত্রে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা তুলে ধরে তাঁরা দাবি করেছেন, এই ধরনের শুল্ক চাপানো কেবল আইনবিরুদ্ধ নয়, বরং এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আমেরিকান নাগরিকদের জন্যও ক্ষতিকর। ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের জন্যও আরেকটি প্রস্তাব আনা হয়েছে।

এই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের বিশেষ ক্ষমতাও প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।

‘অবৈধ শুল্কের’ চাপে আমেরিকার জনগণ:

প্রস্তাব পেশের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কংগ্রেসম্যান দেবরা রস বলেন, “উত্তর ক্যারোলিনার অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে ভারতীয় সংস্থাগুলি প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে হাজার হাজার আমেরিকান চাকরি পেয়েছেন। এই ‘অবৈধ শুল্ক’ আদতে উত্তর ক্যারোলিনার প্রতিটি মানুষকে অতিরিক্ত করের বোঝা বহন করতে বাধ্য করছে।”

অন্যদিকে, রাজা কৃষ্ণমূর্তি মনে করেন, এই শুল্ক আরোপের ফলে আমেরিকার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, মার্কিন কর্মীদের বিপদ বাড়বে এবং জিনিসপত্রের দামও বাড়বে। এর আগে, গত অক্টোবর মাসে এই তিনজন-সহ মোট ১৯ জন কংগ্রেস সদস্য প্রেসিডেন্টের কাছে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। এবার সরাসরি পার্লামেন্টে প্রস্তাব আনা হলো।

চাল-সারের ওপর আরও শুল্কের ইঙ্গিত ট্রাম্পের:

এই প্রস্তাব পেশের কিছুদিন আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি ভারত থেকে আমদানি করা চাল এবং কানাডা থেকে আনা সারের ওপর নতুন করে শুল্ক বসাতে পারেন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন কৃষকদের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণার সময় তিনি দাবি করেন, ভারত, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশ থেকে আমদানি করা চাল মার্কিন কৃষকদের ক্ষতি করছে।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের এই কড়া শুল্ক নীতির আবহে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কে খানিকটা বদল এসেছে এবং ভারত-রাশিয়া-চীন আরও কাছাকাছি এসেছে। সম্প্রতি রাশিয়া সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেন, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের লক্ষ্য ‘কারও বিরোধিতা নয়’—যা ঘুরপথে আমেরিকার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সংসদে ভারতের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।