ধানের বিরতিতে সরষে চাষে বাজিমাত! মাত্র ২ হাজার টাকা খরচে ₹৩৫ হাজার লাভ উপকূলীয় জেলার কৃষকদের

বোরো আর আমন চাষের মাঝের অবসর সময়টুকুকে কাজে লাগিয়ে সরষে চাষে (Mustard Cultivation) বড় সাফল্য পাচ্ছেন উপকূলীয় জেলার কৃষকরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ও পটাশপুরের কৃষকরা এখন বিকল্প ফসল হিসেবে সরষে চাষে ঝুঁকছেন, যেখানে মাত্র ১ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ করেই তাঁরা লাভ করছেন ৩০-৩৫ হাজার টাকা।

কৃষকদের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে একটি সহজ কৌশল: ধান কাটার আগেই জমিতে সরষের বীজ ছড়িয়ে দেওয়া। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ধান কাটার আগে যখন জমিতে সামান্য ভিজে ভাব থাকে, তখনই অঙ্কুরিত সরষে ছড়িয়ে দিতে হয়। এরপর ধান কেটে নেওয়ার পর গাছ আরও দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং আলাদাভাবে জমি প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। ফলে চাষের খরচ যেমন অনেক কমে, তেমনই কম সময়ে তুলনামূলক বেশি আয় আসে।

কম পরিচর্যায় বাম্পার ফলন
এক বিঘা জমিতে তিন থেকে চার কেজি সরষের বীজই যথেষ্ট। এই চাষে খুব বেশি সেচেরও প্রয়োজন হয় না; দু-তিনবার সেচ দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে গাছ বড় হওয়ার সময় ও বিশেষ করে ফুল আসার সময় সামান্য পরিচর্যা করা জরুরি।

বিশেষ পরিচর্যা টিপস:

জমিতে বাড়তি শক্তি জোগাতে পটাশ সার ব্যবহার করা।

ফুল ঝরা কমাতে এবং দানার গঠন উন্নত করতে প্রতি লিটার জলে ২০ গ্রাম বোরন মিশিয়ে স্প্রে করা।

গাছের সবুজ ভাব কমে এলে অল্প পরিমাণ ইউরিয়া সার ছড়ানো।

কৃষকদের মতে, ধানের বিরতিতে এই ন্যূনতম পরিচর্যাতেই এক বিঘা জমিতে তিন থেকে চার কুইন্টাল সরষে ফলানো সম্ভব হচ্ছে।

উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা জানাচ্ছেন, কম খরচে দ্রুত ফসল ফলানোর এই পদ্ধতি তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে ধান কাটার পর প্রায় দুই মাস জমি ফাঁকা পড়ে থাকত। এখন সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে সরষে চাষের মাধ্যমে যে বাড়তি লাভ আসছে, তা আমন চাষের খরচও পুষিয়ে দিতে সাহায্য করছে।