কমিশনের চরম ক্ষোভ! বহুতলে বুথ তৈরির প্রস্তাব না-দেওয়ায় DEO-দের কড়া হুঁশিয়ারি, নির্দেশ না মানলে কঠোর পদক্ষেপ!

রাজ্যের বহুতল বা আবাসনগুলিতে ভোটকেন্দ্র (বুথ) তৈরির জন্য যে প্রস্তাবিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে, তা এখনও কেন এলো না—এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দিতে হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন এর আগে দু’বার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, কেবল দক্ষিণ কলকাতার দু’টি জায়গা থেকে বুথ করার আবেদন জমা পড়েছে। রাজ্যের আর কোনো জেলা থেকে কোনো প্রস্তাব না আসায় কমিশনের হতাশা চরমে।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনীয় জায়গায় বুথ না হলে তার দায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও-দের নিতে হবে। জনপ্রতিনিধি আইন অনুযায়ী জেলাশাসকদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যের অংশ হিসেবেই এই নির্দেশ মানতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল এই প্রসঙ্গে বলেন, “আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটা একটি রুটিন বৈঠক ছিল। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং পুলিশ কমিশনার উপস্থিত না থাকলেও নোডাল অফিসাররা ছিলেন, তাই কোনো অসুবিধা হয়নি।”
খসড়া তালিকার পর নতুন সমীক্ষা
আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে। এই তালিকা প্রকাশের পর বহুতল ভবন, গ্রুপ হাউজিং সোসাইটি, আরডাব্লিউএ কলোনি, বস্তি এলাকা এবং গেটেড সোসাইটিতে বুথ নিয়ে নতুন করে সমীক্ষা চালানো হতে পারে। যে বহুতলগুলিতে ২৫০ থেকে ৫০০ ভোটার রয়েছেন, সেইসব জায়গায় সমীক্ষা করে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দিতে হবে জেলাশাসকদের।
শহরের ভোটারদের অনীহা দূর করাই মূল লক্ষ্য
শহরে, বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার ভোট শতাংশ বাড়াতে নির্বাচন কমিশন হাইরাইজ বিল্ডিংগুলির মধ্যেই বুথ তৈরির চিন্তাভাবনা করছে। নির্বাচন পরবর্তী সমীক্ষায় বারবার উঠে এসেছে যে, এই সব এলাকায় ভোটের হার অন্যান্য জায়গার তুলনায় কম এবং শহুরে ভোটারদের ভোটদানে রীতিমতো অনীহা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতার ভোট শতাংশ ৫৫-এর কাছাকাছি থাকে, যা উদ্বেগজনক।
তাই শহুরে ভোটারদের বুথমুখী করতে এবং ভোটদানের হার বাড়াতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর একাধিক পদক্ষেপ নিলেও খুব একটা লাভ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন আশা করছে, হাইরাইজ বিল্ডিংগুলিতেই বুথ তৈরি করলে এই অনীহা দূর হবে।