‘মীরজাফর’ বার্তা মমতার, তার আগেই বহিষ্কার! ‘মুখ্যমন্ত্রীর সভায় থাকার জন্য অপূর্ব সরকারকে জিজ্ঞাসা করব’— কেন বললেন হুমায়ুন?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুর্শিদাবাদ জেলা সফরের দিনেই বড় রাজনৈতিক নাটক। বহরমপুরে তাঁর জনসভা শুরুর ঠিক আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করার ঘোষণা করা হলো।

সাসপেন্ডের কারণ: লাগাতার দলবিরোধী কার্যকলাপ

বহিষ্কারের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হুমায়ুন কবীরের ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা এবং লাগাতার একাধিক ইস্যুতে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা। এর আগে তাঁকে বারবার সতর্ক করা হলেও এবং শোকজ করা হলেও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরেননি।

অনড় হুমায়ুন: সাসপেনশনের দিন সকালেও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে বেলডাঙায় যান এবং বুধবারের ঘোষণা অনুযায়ী, ৬ তারিখ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর হবে বলে জানান। তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী কিছু বললেও তিনি শুনবেন না।

সাসপেনশনের ঘোষণা: বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় আসার পরই কলকাতায় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দুই বিধায়ক নিয়ামত সেখ ও আখরুজজানকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন।

সভা থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর

বহিষ্কারের খবর জানতেই সঙ্গে সঙ্গে হুমায়ুন কবীর জনসভা থেকে বেরিয়ে যান এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চরম বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

নতুন দল গঠনের ঘোষণা: হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি আগামী ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদ জেলাতে নতুন দল গঠন করে তৃণমূলকে দেখিয়ে দেবেন।

‘অপমানের’ অভিযোগ: তিনি বলেন, “এর আগেও ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।” এরপর তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সভায় থাকার জন্য বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারকে জিজ্ঞাসা করব। তিনি যদি থাকতে বলেন আমি থাকব।”

এই সাসপেনশন এবং হুমায়ুন কবীরের পাল্টা নতুন দল গঠনের ঘোষণা— দুইয়ে মিলে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।