SIR ইস্যুতে কেন্দ্রকে তুলোধোনা: ‘এসআইআর না করতে দিলে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন করত বিজেপি’, বহরমপুর থেকে গর্জন মমতার

বহরমপুরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের SIR (State Identity Register) প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে গুজব—সব কিছুতেই কেন্দ্রীয় মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়ালেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার ‘চালাকি’ করছিল, তাই বাধ্য হয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া চলতে দিয়েছেন।
১. SIR নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন যে, কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ভোটের আগে এসআইআর হচ্ছে না।
‘বাঙালি বিদ্বেষী’ অভিযোগ: তিনি অভিযোগ করেন, “যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় নেই সেখানে কেন ভোটের আগে এসআইআর হবে? অসম, ত্রিপুরা বাংলাদেশের সীমান্ত ভাগ করে, কিন্তু সেখানে এসআইআর হচ্ছে না। বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে?”
বিজেপিকে কড়া বার্তা: তিনি বিজেপিকে ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন যে তারা বাঙালি ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করছে এবং জেলে পুরছে।
রাষ্ট্রপতি শাসনের ‘চালাকি’: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। শুধু নিজের নথিগুলি জমা দিন। যদি এসআইআর না করতে দিতাম তাহলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত। বুঝেছেন অমিত শাহের চালাকি?” তিনি বলেন, “আমরা অত বোকা নিয়ই বাবুমশাই, গোদিভাই! আমরা করব, লড়ব। জিতে দেখাব। আমাদের ভাতে মারা যাবে না। সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া যাবে না।”
২. ভোটার তালিকায় নাম তোলার আশ্বাস
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে জনগণের উদ্বেগ দূর করতে মমতা বলেন যে, তিনি এই রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প কিছুতেই করতে দেবেন না। জনগণকে অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “যতক্ষণ না আপনাদের সকলের নাম উঠছে ততক্ষণ আমি নিজের নাম তুলব না।” তিনি নির্দেশ দেন, “প্রতিটা বুথে মে আই হেল্প ইউ ক্যাম্প করতে হবে। যাতে আপনাদের সুবিধে হয়।” তিনি আবারও স্পষ্ট করেন, বাংলায় তিনি এনআরসি (NRC) করতে দেবেন না।
৩. ওয়াকফ সম্পত্তি ও গুজবের জবাব
ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে সংখ্যালঘু সমাজকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, “কেউ কেউ সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করছে। বলছে ওয়াকফ নিয়ে আমরা নাকি কিছু করিনি। এটাও সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।” তিনি জানান, তাঁর সরকার বিধানসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আইন পাশ করেছিল এবং বলেছিল, জোর করে ওয়াকফ সম্পত্তি কাড়া যাবে না।
গুজব ও AI: মমতা গুজব রটানো দুষ্কৃতীদের ‘বিজেপির টাকা খাওয়া গদ্দার’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বেরিয়ে গিয়েছে। আমার মুখে অন্যের কথা বসানো হচ্ছে। ওরা করে লুট, আর বলে ঝুট!”