২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ নেই! নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দিতেও অস্বীকার শীর্ষ আদালতের!

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) প্রায় ছাব্বিশ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি বাতিলের রায়ে নতুন করে কোনো হস্তক্ষেপ করতে রাজি হলো না দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই মামলাটির শুনানি চলার সময় নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দিতেও স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে আদালত।

পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ

দুর্নীতির অভিযোগে আগেই কলকাতা হাইকোর্ট প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল। সেই সময়েই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি-র পরীক্ষা।

মামলা খারিজ: চাকরি বাতিলের রায়ের পুনর্বিবেচনা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। সোমবার শুনানি চলার সময় কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে এই মামলায় তারা কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবে না।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্য: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এ দিন বলেন, “যখন কোনো নিয়োগ খারিজ হয়, তখন ভালো পড়ুয়ারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু যাঁরা ভালো পড়ুয়ারা, তাঁরা আবার নিযুক্ত হয়ে যাবেন।”

নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মামলা হাইকোর্টে

প্রসঙ্গত, নতুন করে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এই প্রক্রিয়ার পূর্বে জানিয়েছিল যে পুরনোদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া হবে।

নবাগতদের অভিযোগ: এই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে অনেক নবাগত চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় ফুল মার্কস পাওয়ার পরও অতিরিক্ত নম্বর না পাওয়ায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ডাক পাননি। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: এই মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালেও কোর্ট সেই সময়ও জানিয়ে দিয়েছিল যে তারা এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না। কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে জানায়, তাঁদের নির্দেশ ছিল দুর্নীতি মুক্ত পরীক্ষা। কিন্তু নতুনদের পরীক্ষা নেওয়ার কথা আদালত বলেনি। এই সিদ্ধান্ত যখন এসএসসি নিয়েছে, বাকিটা তাদেরই সামলাতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলাও হাইকোর্টের দিকে ঠেলে দেয়।